নফসে আম্মারা কী ও কেন হয়? মুক্তির উপায় জানুন
“নফসে আম্মারা কী ও কেন হয়? মুক্তির উপায় জানুন”
নফসে আম্মারা হলো মানুষের অন্তরের সেই প্রবৃত্তি যা সবসময় মানুষকে মন্দ ও পাপ কাজের দিকে প্ররোচিত করে। “নফসে আম্মারা কী ও কেন হয়? মুক্তির উপায় জানুন“
নফসে আম্মারা কী?
নফসে আম্মারা (النَّفْسَ الأَمَّارَة) শব্দটির অর্থ হলো মন্দ কাজের নির্দেশদাতা আত্মা বা কুপ্রবৃত্তি। এটি মানুষের ভেতরের সেই প্রবণতা, যা মানুষকে সর্বদাই পাপ কাজ, অন্যায়, অবাধ্যতা এবং পার্থিব সাময়িক আনন্দের দিকে প্ররোচিত করে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সুরা ইউসুফে হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর মাধ্যমে ইরশাদ করেন:
আল্লাহ্ বলেনঃ
“আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না; নিশ্চয় মানুষের নফস মন্দ কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকে।” (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৫৩)
এই স্তরে থাকা মানুষ তার বিবেক বা ধর্মীয় মূল্যবোধের চেয়ে নিজের ইচ্ছা, লোভ ও কাম বাসনাকে বেশি প্রাধান্য দেয়।
নফসে আম্মারা থেকে বাঁচার উপায়
নফসে আম্মারা বা কুপ্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে বেঁচে থাকা এবং আত্মাকে পরিশুদ্ধ (নফসে লাওয়্যাহমাহ ও পরবর্তীতে নফসে মুতমাইন্নাহ্-তে উন্নত) করার জন্য ইসলামে বেশ কিছু নির্দেশিকা রয়েছে:
- ১. আত্মপর্যালোচনা ও সচেতনতা (মুহাসাবা): প্রতিদিন নিজের কাজগুলো হিসাব করা। কোনো ভুল বা পাপ কাজ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে লজ্জিত হওয়া এবং তাওবা করা।
- ২. শয়তান ও কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম (মুজাহাদা): মন যা-ই চায় তা-ই না করা। হারাম ও অন্যায় প্ররোচনা এলে নিজেকে জোরপূর্বক বিরত রাখা এবং আল্লাহর আদেশ মেনে চলা।
- ৩. নিয়মিত জিকির ও ইবাদত: আল্লাহর জিকির এবং ফরজ ইবাদতগুলো (বিশেষ করে সালাত) নিষ্ঠার সাথে আদায় করা। নামাজ মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।
- ৪. সৎ সঙ্গ বা ভালো মানুষের সাথে থাকা: নেককার, বুজুর্গ ও সৎ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করা। খারাপ বন্ধুদের সঙ্গ ত্যাগ করা, কারণ সঙ্গ মানুষের চরিত্র ও নফসের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
- ৫. নফসের খোরাক কমানো (নফল রোজা রাখা): অতিরিক্ত ভোগ-বিলাস ও অতিভোজন নফসকে শক্তিশালী করে। নফল রোজা রাখার মাধ্যমে কুপ্রবৃত্তি ও কামভাবকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
- ৬. মৃত্যুর কথা স্মরণ করা: মৃত্যু, কবর এবং আখিরাতের জবাবদিহিতার কথা বেশি বেশি স্মরণ করা। এটি অন্তরের কঠোরতা দূর করে এবং পাপের আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দেয়।
- ৭. আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে দোয়া করা: নিজের নফসের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে হেদায়েত ও সাহায্য চাওয়া। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দোয়া করতেন: “হে আল্লাহ! আপনি আমার নফসকে তার তাকওয়া দান করুন এবং একে পরিশুদ্ধ করুন।”
নফসের বিরুদ্ধে এই লড়াই একদিনের নয়, এটি সারা জীবনের একটি প্রক্রিয়া। প্রতিনিয়ত চেষ্টার মাধ্যমে নফসকে নিয়ন্ত্রণে এনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই একজন মুমিনের মূল লক্ষ্য।
নফসে আম্মারা কী ও কেন হয়? মুক্তির উপায় জানুন, এ সম্পর্কে আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

