রমজানের শেষ দশক, ফিতরা ও ঈদের বিধান PDF বই

রমজানের শেষ দশক

রমজানের শেষ দশক, ফিতরা ও ঈদের বিধান বই

Romjaner Sesh Doshok, Fitra O Eider Bidhan PDF Boi

রমজানের শেষ দশক, ফিতরা ও ঈদের বিধান;  রমজানের শেষ দশক, সাদাকাতুল ফিতর এবং ঈদুল ফিতরের বিধান ও আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট বিবরণ দেওয়া হলো:

রমজানের শেষ দশকের গুরুত্ব ও আমল

রমজানের শেষ দশক হলো নাজাত বা জাহান্নাম থেকে মুক্তির সময়। এই দশকের ইবাদত সমগ্র রমজানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ।

  • শবে কদর অন্বেষণ: শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯) লাইলাতুল কদর বা শবে কদর খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

  • সুন্নত ইতিকাফ: রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে মসজিদে ইতিকাফ করতেন। এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা কিফায়া।

  • বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার: শেষ দশকে কিয়ামুল লাইল (রাতের নামাজ), কোরআন তিলাওয়াত এবং ক্ষমা প্রার্থনা বৃদ্ধি করা উচিত।

সদকাতুল ফিতরের বিধান

সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা ওয়াজিব একটি বিধান। 

  • কার ওপর ওয়াজিব: সচ্ছল প্রতিটি মুসলিম নর-নারী, ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সবার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। ঈদের দিন ফজর বা ঈদের সালাতে যাওয়ার পূর্ববর্তী সময়ের মধ্যে যার কাছে মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাকে ফিতরা দিতে হয়। 

  • প্রদানের সময়: ঈদের নামাজের আগে আদায় করা ফরজ বা ওয়াজিব। তবে ঈদের দুই-তিন দিন আগেও বা শেষ দশকেও সাহাবিদের অনেকে তা আদায় করতেন। ঈদের নামাজের পর দিলে সাধারণ দান হিসেবে গণ্য হবে, ফিতরা আদায় হবে না। 

  • পরিমাণ: যব, কিশমিশ, পনির বা খেজুর ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্য দিয়ে অথবা সমমূল্যের নগদ অর্থ দিয়ে ফিতরা পরিশোধ করা যায়। সাধারণত আধা সা‘ (গম বা আটা) অথবা এক সা‘ (যব, খেজুর, পনির বা কিশমিশ) পরিমাণ খাদ্য বা এর বাজারমূল্য ধর্তব্য হয়।

ঈদের (ঈদুল ফিতর) বিধান ও সুন্নত

ঈদুল ফিতর হলো দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য বিশেষ পুরস্কার ও আনন্দের দিন।

ঈদের দিনের সুন্নতসমূহ:

  • সকালে গোসল করা, মিসওয়াক করা এবং পরিপাটি বা নতুন পরিষ্কার পোশাক পরা।
  • ঈদগাহে যাওয়ার আগে বিজোড় সংখ্যায় (যেমন ৩টি বা ৫টি) খেজুর বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়া।
  • পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া এবং এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া, অন্য রাস্তা দিয়ে ফেরা।
  • যাওয়ার সময় ও আসার সময় নিচু আওয়াজে তাকবির পাঠ করা (আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু...)।
  • পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করা—যেমন তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম (আল্লাহ আমাদের ও আপনার পক্ষ থেকে কবুল করুন) বলা। 
  • ঈদ উদযাপনের পরিধি: ইসলামি সীমার মধ্যে থেকে আনন্দ-ফুর্তি করা, আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যাওয়া, ও পাড়া-প্রতিবেশীর খোঁজখবর নেওয়া এবং গরিব-দুঃখীদের আনন্দিত করার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হলো ঈদের মূল শিক্ষা