পানাহারের শিষ্টাচার

১) হালাল ও পবিত্র খাদ্য গ্রহণ করা :

২) পানাহারের পূর্বে  বিসমিল্লাহ বলা, ডান হাত দিয়ে ও সামনে থেকে খাওয়া সুন্নত।

৩) ডান হাতে খাওয়া ও পান করা :

৪) অতিরিক্ত না খাওয়া 

৫) খাবারের নিন্দা না করা :

৬) খাদ্যের অপচয় না করা :

৭) পানীয় ধীরে ধীরে তিন শ্বাসে পান কর :

৮) পানাহারের পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা :

৯) অন্যের সঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়া ও শিষ্টাচার বজায় রাখা :

লেখক : তাজাম্মুল হক সালাফী

  اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ- إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ فاعوذ بالله من الشيطان الرجيم  بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ-يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ (168)

ইসলাম মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করার শিক্ষা দিয়েছে। পানাহারও এর ব্যতিক্রম নয়। খাদ্য ও পানীয় আল্লাহর বিরাট নিয়ামত; তাই এগুলো গ্রহণের ক্ষেত্রে হালাল-হারাম, পরিমিতি, শিষ্টাচার, কৃতজ্ঞতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা একজন মুমিনের কর্তব্য।

১) হালাল ও পবিত্র খাদ্য গ্রহণ করা : আল্লাহ তাআলা বলেন—يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا  “হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র, তা থেকে তোমরা আহার করো।”— সূরা আল-বাকারা–১৬৮। অতএব মুসলমানের প্রথম আদব হলো খাদ্য হালাল ও তায়্যিব (পবিত্র) হওয়া। শুধু সুস্বাদু হলেই হবে না; খাদ্যটি শরিয়াহসম্মত উপায়ে উপার্জিত ও বৈধ হওয়াও জরুরি।

২) পানাহারের পূর্বে  বিসমিল্লাহ বলা, ডান হাত দিয়ে ও সামনে থেকে খাওয়া সুন্নত।

عُمَرَ بْنَ أَبِي سَلَمَةَ، يَقُولُ: كُنْتُ غُلاَمًا فِي حَجْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَانَتْ يَدِي تَطِيشُ فِي الصَّحْفَةِ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا غُلاَمُ، سَمِّ اللَّهَ، وَكُلْ بِيَمِينِكَ، وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ» فَمَا زَالَتْ تِلْكَ طِعْمَتِي بَعْدُ

উমর ইবনু আবি সালামাহ (রা.) বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে খাবার খাওয়ার সময় পাত্রের বিভিন্ন দিক থেকে হাত বাড়াতেন। তখন নবী ﷺ তাকে বললেন,“হে বৎস! বিসমিল্লাহ বলো, ডান হাত দিয়ে খাও এবং তোমার সামনে থেকে খাও।”— সহিহ আল-বুখারি, ৫৩৭৬।

৩) ডান হাতে খাওয়া ও পান করা : রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-

إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَأْكُلْ بِيَمِينِهِ، وَإِذَا شَرِبَ فَلْيَشْرَبْ بِيَمِينِهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ، وَيَشْرَبُ بِشِمَالِهِ»

“তোমাদের কেউ যখন খাবে, সে যেন ডান হাত দিয়ে খায় এবং যখন পান করবে, সে যেন ডান হাত দিয়ে পান করে; কারণ শয়তান বাম হাত দিয়ে খায় ও পান করে।” — সহিহ মুসলিম, ২০২০

৪( অতিরিক্ত না খাওয়া  : এটি ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যনীতি। আল্লাহ তাআলা বলেন—وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا “তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয়/অতিরিক্ত করো না।”— সূরা আল-আ‘রাফ, ৭:৩১।  অর্থাৎ ইসলাম খাবার নিষেধ করেনি; বরং পরিমিত খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,“মানুষ তার পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। আদম সন্তানের জন্য কয়েক লোকমাই যথেষ্ট, যা তার মেরুদণ্ড সোজা রাখে। তবে যদি বেশি খেতেই হয়, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাসের জন্য।” — সুনান ইবন মাজাহ, ৩৩৪৯, সহীহ।

৫) খাবারের নিন্দা না করা : অনেক সময় কোনো খাবার পছন্দ না হলে মানুষ রান্না বা যিনি রান্না করেছেন তাঁর সমালোচনা করে। এটি ইসলামী আদবের পরিপন্থী। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন-

 مَا عَابَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَعَامًا قَطُّ، إِنِ اشْتَهَاهُ أَكَلَهُ، وَإِنْ كَرِهَهُ تَرَكَهُ

রাসুলুল্লাহ ﷺ কখনো কোনো খাবারের দোষ ধরতেন না। তাঁর পছন্দ হলে খেতেন, আর অপছন্দ হলে তা রেখে দিতেন।”— সহিহ আল-বুখারি, ৫৪০৯।

৬) খাদ্যের অপচয় না করা : আল্লাহ বলেন— إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا (27)  “নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের নিয়ামত অস্বীকারকারী ”— সূরা আল-ইসরা, ১৭:২৭

৭) পানীয় ধীরে ধীরে তিন শ্বাসে পান কর : আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত-

إِذَا شَرِبَ تَنَفَّسَ ثَلَاثًا، وَقَالَ: هُوَ أَهْنَأُ، وَأَمْرَأُ، وَأَبْرَأُ    

  রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানীয় পান করার সময় তিনবার শ্বাস নিতেন এবং বলেছেন, এভাবে পান করা বেশি তৃপ্তিদায়ক ও উপকারী।— সুনান আবু দাউদ, ৩৭২৭, সহীহ।

৮) পানাহারের পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা : খাবার ও পানীয় আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। তাই পানাহারের পর আল্লাহর প্রশংসা করা উচিত। আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ খাওয়া বা পান করার পর বলতেন:

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَ وَسَقَى وَسَوَّغَهُ وَجَعَلَ لَهُ مَخْرَجًا

উচ্চারণ : আলহামদু লিল্লা হিল্লাযী আত্ব‘আমা ওয়া সাক্বা ওয়া সাউওয়াগাহূ ওয়া জা‘আলা লাহূ মাখরাজা। অর্থ : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি খাদ্য ও পানীয় দান করেছেন, তা সহজে গ্রহণযোগ্য করেছেন এবং তার নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছেন।”— সুনান আবু দাউদ, ৩৮৫১, সহীহ।

৯) অন্যের সঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়া ও শিষ্টাচার বজায় রাখা : ইসলাম খাবারের ক্ষেত্রে কেবল ব্যক্তিগত আচরণ নয়, সামাজিক আদবও শিক্ষা দিয়েছে। একই পাত্রে খাওয়ার সময় নিজের সামনে থেকে খাওয়া, অন্যের প্রতি সম্মান দেখানো এবং খাবার নিয়ে অহংকার না করা ইসলামী শিষ্টাচারের অংশ। রাসুল ﷺ বলেছেন : «طَعَامُ الِاثْنَيْنِ كَافِي الثَّلاَثَةِ، وَطَعَامُ الثَّلاَثَةِ كَافِي الأَرْبَعَةِ» দুজনের খাবার তিনজনের জন্য যথেষ্ট এবং তিনজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট।”— সহিহ আল-বুখারি, ৫৩৯২।

পরিশেষে বলতে চাই েয, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ মুতাবিক পানাহাল করলে, পানাহারও একটি ইবাদত হিসাবে গণ্য হবে। েহ আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে পানাহারের আদব পালন করার তাওফীক দান করো, আমীন। وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِين

Leave a Reply