দাজ্জাল : আগমন, ফিতনা, কার্যকলাপ ও তা থেকে বাঁচার উপায়

ভূমিকা

ইসলামী আকীদার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান রাখা। কিয়ামতের বড় নিদর্শনগুলোর মধ্যে মসীহুদ্দাজ্জাল অন্যতম এবং তার ফিতনা মানবজাতির জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ পরীক্ষাগুলোর একটি। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর উম্মতকে দাজ্জাল সম্পর্কে এত বেশি সতর্ক করেছেন যে, কোনো নবীই তাঁর উম্মতকে দাজ্জালের ব্যাপারে সতর্ক না করে যাননি। দাজ্জালের ফিতনার ভয়াবহতা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

مَا بَيْنَ خَلْقِ آدَمَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ أَمْرٌ أَكْبَرُ مِنَ الدَّجَّالِ

“আদম (আ.)-এর সৃষ্টি থেকে কিয়ামত পর্যন্ত দাজ্জালের চেয়ে বড় কোনো বিষয় নেই।”—সহীহ মুসলিম, ২৯৪৬

দাজ্জাল সম্পর্কে কুরআনে সরাসরি কোনো বিস্তারিত বর্ণনা নেই। তার পরিচয়, বৈশিষ্ট্য, আবির্ভাব, ফিতনা, পৃথিবীতে অবস্থান এবং পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এসেছে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সহীহ হাদিসে। অতএব, দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করতে হলে দুর্বল, জাল ও লোকমুখে প্রচলিত কাহিনির পরিবর্তে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহকে ভিত্তি করতে হবে।

দাজ্জাল কে?

১. ‘দাজ্জাল’ শব্দের অর্থ : আরবি الدَّجَّال শব্দটি دَجَلَ ধাতু থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো—মিথ্যা দিয়ে সত্যকে ঢেকে দেওয়া, প্রতারণা করা, ধোঁকা দেওয়া। তাকে المسيح الدجال আল-মাসীহুদ্দাজ্জাল বলা হয়।

এখানে “মাসীহ” শব্দটি ঈসা ইবনু মারইয়াম (আ.)-এর সম্মানসূচক নামের অর্থে নয়। বরং দাজ্জাল ও ঈসা (আ.)-এর মধ্যে নামের একটি বৈপরীত্য রয়েছে—একজন সত্যের মাসীহ, অন্যজন মিথ্যার দাবিদার।

২. দাজ্জাল একজন বাস্তব ব্যক্তি :

দাজ্জাল কোনো কাল্পনিক চরিত্র বা শুধুমাত্র প্রতীকী ধারণা নয়। সহীহ হাদিসে তাকে একজন বাস্তব মানুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِنَّهُ شَابٌّ قَطَطٌ عَيْنُهُ طَافِئَةٌ

“সে একজন যুবক, যার চুল কোঁকড়ানো এবং যার একটি চোখ নিষ্প্রভ/ত্রুটিপূর্ণ।”—সহীহ মুসলিম, ২৯৩৭।

অন্য হাদিসে এসেছে:

إِنَّهُ أَعْوَرُ، وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ

“সে একচোখা; আর নিশ্চয়ই তোমাদের রব একচোখা নন।”—সহীহ বুখারি, ৭৪০৮। এখানে দাজ্জালের শারীরিক ত্রুটিকে তার মিথ্যা দাবির বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট দলীল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

৩. তার কপালে ‘কাফির’ লেখা থাকবে : রাসূল ﷺ বলেছেন:

مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ

“তার দুই চোখের মাঝখানে ‘কাফির’ লেখা থাকবে।”—সহীহ বুখারি, ৭৪০৮। এটি তার মিথ্যা ও কুফরির পরিচয়ের একটি বিশেষ নিদর্শন।

দাজ্জালের আগমনের পূর্বপরিস্থিতি :

 দাজ্জালের আবির্ভাব কিয়ামতের বড় নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তার আগমনের পূর্বে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফিতনা, অজ্ঞতা ও ঈমানের দুর্বলতা দেখা দেবে। রাসূল ﷺ বলেছেন:

بَادِرُوا بِالْأَعْمَالِ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ

“তোমরা অন্ধকার রাতের টুকরোর মতো ফিতনা আসার পূর্বে নেক আমল করতে দ্রুত হও।”—সহীহ মুসলিম, ১১৮।

নাবীর মিথ্যা দাবিদারদের আবির্ভাব : রাসূল ﷺ বলেছেন:

وَإِنَّهُ سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي كَذَّابُونَ ثَلَاثُونَ، كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ

“আমার উম্মতের মধ্যে ত্রিশজন মিথ্যাবাদী হবে; প্রত্যেকেই দাবি করবে যে সে নবী।”—সহীহ বুখারি, ৩৬০৯; সহীহ মুসলিম, ১৫৭। এরা সবাই দাজ্জাল নয়। বরং তারা দাজ্জালের মতো মিথ্যা দাবিদারদের একটি শ্রেণি।

দাজ্জালের আবির্ভাব ও পৃথিবীতে বিচরণ :

 দাজ্জালের আবির্ভাবের স্থান সম্পর্কে একটি হাদিসে খুরাসানের কথা এসেছে।

রাসূল ﷺ বলেছেন:

الدَّجَّالُ يَخْرُجُ مِنْ أَرْضٍ بِالْمَشْرِقِ يُقَالُ لَهَا خُرَاسَانُ

“দাজ্জাল পূর্বাঞ্চলের খুরাসান নামক একটি ভূমি থেকে বের হবে।”—জামে‘ আত-তিরমিযি, ২২৩৭,সহীহ।

তবে এখানে “খুরাসান”কে বর্তমানের কোনো একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি এক করে দেওয়া ঠিক নয়। ঐতিহাসিক খুরাসান ছিল বিস্তৃত একটি ভৌগোলিক অঞ্চল।

অত্যন্ত দ্রুত পৃথিবীতে বিচরণ : সহীহ মুসলিমের দীর্ঘ হাদিসে এসেছে, দাজ্জাল দ্রুত পৃথিবীতে বিচরণ করবে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে ফিতনা ছড়াবে। তাই দাজ্জালের ফিতনা কোনো একটি শহর বা জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

দাজ্জালের প্রধান কার্যকলাপ :

দাজ্জালের সবচেয়ে বড় অপরাধ হবে মানুষের ঈমান নষ্ট করার চেষ্টা। সে বলবে:

أَنَا رَبُّكُمْ

“আমি তোমাদের রব।”—সহীহ মুসলিম, ২৯৩৭।

বৃষ্টি ও ফসলের পরীক্ষা : রাসূল ﷺ বলেছেন, দাজ্জাল কোনো সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে তাদের তার প্রতি ঈমান আনতে বলবে। তারা ঈমান আনলে সে আকাশকে বৃষ্টি বর্ষণের নির্দেশ দেবে এবং জমিকে ফসল উৎপাদনের নির্দেশ দেবে।

فَيَأْمُرُ السَّمَاءَ فَتُمْطِرُ، وَالْأَرْضَ فَتُنْبِتُ

“সে আকাশকে বৃষ্টি বর্ষণের নির্দেশ দেবে এবং পৃথিবীকে ফসল উৎপাদনের নির্দেশ দেবে।” —সহীহ মুসলিম, ২৯৩৭।

এগুলো দাজ্জালের সত্যতার প্রমাণ নয়; বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য পরীক্ষা।

জান্নাত ও জাহান্নামের মতো দৃশ্য : রাসূল ﷺ বলেছেন:

مَعَهُ جَنَّةٌ وَنَارٌ، فَنَارُهُ جَنَّةٌ، وَجَنَّتُهُ نَارٌ

“তার সঙ্গে জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে; কিন্তু তার আগুন আসলে জান্নাত এবং তার জান্নাত আসলে আগুন।” —সহীহ মুসলিম, ২৯৩৪।

অর্থাৎ দাজ্জালের প্রদর্শিত বিষয় বাহ্যিকভাবে সত্যের মতো মনে হলেও প্রকৃত সত্য সম্পূর্ণ বিপরীত হবে।

দাজ্জালের ফিতনা এত ভয়াবহ কেন?

 দাজ্জালের ফিতনার সবচেয়ে বড় বিপদ হলো—এটি মানুষের আকীদা ও ঈমানকে সরাসরি আঘাত করবে। রাসূল ﷺ বলেছেন:

مَا بَيْنَ خَلْقِ آدَمَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ أَمْرٌ أَكْبَرُ مِنَ الدَّجَّالِ

“আদমের সৃষ্টি থেকে কিয়ামত পর্যন্ত দাজ্জালের চেয়ে বড় কোনো ফিতনা নেই।”—সহীহ মুসলিম, ২৯৪৬।

দাজ্জালের ফিতনার কয়েকটি দিক:

১. আল্লাহ হওয়ার মিথ্যা দাবি

২. মানুষের চোখকে প্রতারিত করা

৩. সম্পদ ও খাদ্যের প্রলোভন

৪. ভয় ও শাস্তির মাধ্যমে মানুষকে বাধ্য করা

৫. অজ্ঞ ও দুর্বল ঈমানের মানুষকে বিভ্রান্ত করা

৬. সত্য ও মিথ্যার সীমা অস্পষ্ট করে দেওয়া

এ কারণেই নবী-রাসূলগণ তাঁদের উম্মতকে সতর্ক করেছেন।

পৃথিবীতে দাজ্জালের অবস্থানকাল :

দাজ্জাল পৃথিবীতে ৪০ দিন অবস্থান করবে। রাসূল ﷺ বলেছেন:

أَرْبَعُونَ يَوْمًا، يَوْمٌ كَسَنَةٍ، وَيَوْمٌ كَشَهْرٍ، وَيَوْمٌ كَجُمُعَةٍ، وَسَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ

“চল্লিশ দিন। একটি দিন এক বছরের মতো, একটি দিন এক মাসের মতো, একটি দিন এক সপ্তাহের মতো এবং তার অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের সাধারণ দিনের মতো।” —সহীহ মুসলিম, ২৯৩৭।

সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন:

أَتَكْفِينَا فِيهِ صَلَاةُ يَوْمٍ؟

“যে দিনটি এক বছরের মতো দীর্ঘ হবে, তার জন্য কি এক দিনের নামাজই যথেষ্ট হবে?” রাসূল ﷺ বললেন:

لَا، اقْدُرُوا لَهُ قَدْرَهُ

“না; তোমরা সময়ের হিসাব করে নামাজ আদায় করবে।”—সহীহ মুসলিম, ২৯৩৭।

এখানে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও সালাত পরিত্যাগ করা যাবে না।

কারা দাজ্জালের অনুসারী হবে?

 দাজ্জালের অনুসারীদের মধ্যে থাকবে দুর্বল ঈমানের মানুষ, অজ্ঞ মানুষ এবং যারা দুনিয়ার সম্পদ ও বাহ্যিক শক্তির প্রতি অতিরিক্ত আকৃষ্ট।

ইসফাহানের ৭০ হাজার ইহুদি : সহীহ মুসলিমে এসেছে:

يَتْبَعُ الدَّجَّالَ مِنْ يَهُودِ أَصْبَهَانَ سَبْعُونَ أَلْفًا

“ইসফাহানের ইহুদিদের মধ্য থেকে সত্তর হাজার ব্যক্তি দাজ্জালের অনুসরণ করবে।”—সহীহ মুসলিম, ২৯৪৪।

এটি একটি নির্দিষ্ট হাদিসের নির্দিষ্ট ঘটনা। এর ভিত্তিতে পৃথিবীর সকল ইহুদিকে দাজ্জালের অনুসারী বলা যাবে না।

মুনাফিকদের প্রকাশ : মদিনা সম্পর্কে রাসূল ﷺ বলেছেন:

يَخْرُجُ إِلَيْهِ مِنْهَا كُلُّ كَافِرٍ وَمُنَافِقٍ

“সেখান থেকে প্রত্যেক কাফির ও মুনাফিক তার দিকে বেরিয়ে যাবে।”—সহীহ মুসলিম, ২৯৪৩।

  • মক্কা ও মদিনায় দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না :

 দাজ্জালের একটি বিশেষ সীমাবদ্ধতা হলো—সে মক্কা ও মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না। রাসূল ﷺ বলেছেন:

لَيْسَ مِنْ بَلَدٍ إِلَّا سَيَطَؤُهُ الدَّجَّالُ إِلَّا مَكَّةَ وَالْمَدِينَةَ

“এমন কোনো শহর থাকবে না যেখানে দাজ্জাল প্রবেশ করবে না—শুধু মক্কা ও মদিনা ব্যতীত।”—সহীহ মুসলিম, ২৯৪৩।

১. মক্কা ও মদিনার প্রবেশপথে ফেরেশতাদের পাহারা : আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«لَيْسَ مِنْ بَلَدٍ إِلَّا سَيَطَؤُهُ الدَّجَّالُ، إِلَّا مَكَّةَ وَالْمَدِينَةَ، لَيْسَ لَهُ مِنْ نِقَابِهَا نَقْبٌ إِلَّا عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ صَافِّينَ يَحْرُسُونَهَا، ثُمَّ تَرْجُفُ الْمَدِينَةُ بِأَهْلِهَا ثَلَاثَ رَجَفَاتٍ، فَيُخْرِجُ اللَّهُ كُلَّ كَافِرٍ وَمُنَافِقٍ»


“এমন কোনো নগর নেই যেখানে দাজ্জাল পদার্পণ করবে না—তবে মক্কা ও মদিনা ব্যতিক্রম। এ দুটির কোনো প্রবেশপথই এমন থাকবে না, যার ওপর ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে পাহারা দেবেন না। অতঃপর মদিনা তার অধিবাসীদের নিয়ে তিনবার কেঁপে উঠবে এবং আল্লাহ প্রত্যেক কাফির ও মুনাফিককে তা থেকে বের করে দেবেন।” সহীহ আল-বুখারী, হাদীস: ১৮৮১

২. মদিনার প্রতিটি দরজায় দুইজন ফেরেশতা : আবু বাকরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন:

«لَا يَدْخُلُ الْمَدِينَةَ رُعْبُ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَلَهَا يَوْمَئِذٍ سَبْعَةُ أَبْوَابٍ، عَلَى كُلِّ بَابٍ مَلَكَانِ»


“মসীহ দাজ্জালের আতঙ্ক মদিনায় প্রবেশ করবে না। সে সময় মদিনার সাতটি দরজা থাকবে এবং প্রতিটি দরজায় দুজন করে ফেরেশতা থাকবে।” সহীহ আল-বুখারী, হাদীস: ১৮৭৯;  একই হাদীস সহীহ আল-বুখারী ৭১২৫-এও এসেছে।

৩. মদিনার প্রবেশপথে ফেরেশতাদের পাহারা : আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত:

«عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِينَةِ مَلَائِكَةٌ، لَا يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ وَلَا الدَّجَّالُ»

 “মদিনার প্রবেশপথসমূহে ফেরেশতারা অবস্থান করছেন। সেখানে প্লেগ প্রবেশ করতে পারবে না এবং দাজ্জালও প্রবেশ করতে পারবে না।” সহীহ আল-বুখারী, হাদীস: ১৮৮০

মদিনার তিন কম্পন ও মুনাফিকদের বহিষ্কার : আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِينَةِ مَلَائِكَةٌ، لَا يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ، وَلَا الدَّجَّالُ، وَالْمَدِينَةُ يَوْمَئِذٍ تَرْجُفُ بِأَهْلِهَا ثَلَاثَ رَجَفَاتٍ، فَيُخْرِجُ اللَّهُ كُلَّ كَافِرٍ وَمُنَافِقٍ»


“মদিনার প্রবেশপথসমূহে ফেরেশতারা রয়েছেন। সেখানে প্লেগ প্রবেশ করতে পারবে না এবং দাজ্জালও প্রবেশ করতে পারবে না। সেদিন মদিনা তার অধিবাসীদের নিয়ে তিনবার কেঁপে উঠবে। ফলে আল্লাহ প্রত্যেক কাফির ও মুনাফিককে মদিনা থেকে বের করে দেবেন।” সহীহ আল-বুখারী, হাদীস ১৮৮১ সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৯৪৩

দাজ্জালের দিকে তারা কীভাবে যাবে? আরেকটি সহীহ বর্ণনায় এসেছে, মদিনা তিনবার কেঁপে উঠলে মদিনায় থাকা কাফির ও মুনাফিকরা দাজ্জালের কাছে চলে যাবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«فَيَخْرُجُ إِلَيْهِ كُلُّ كَافِرٍ وَمُنَافِقٍ»


“তখন প্রত্যেক কাফির ও মুনাফিক তার (দাজ্জালের) দিকে বের হয়ে যাবে।” সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৯৪৩

ঈসা (আ.)-এর আগমন ও দাজ্জালের মৃত্যু :

 দাজ্জালের ফিতনার চূড়ান্ত পরিণতি হবে ঈসা ইবনু মারইয়াম (আ.)-এর অবতরণ। সহীহ মুসলিমের দীর্ঘ হাদিসে এসেছে, ঈসা (আ.) দামেস্কের পূর্বদিকে সাদা মিনারের কাছে অবতরণ করবেন। এরপর তিনি দাজ্জালের অনুসরণ করবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। রাসূল ﷺ বলেছেন:

فَيَطْلُبُهُ حَتَّى يُدْرِكَهُ بِبَابِ لُدٍّ فَيَقْتُلُهُ

“তিনি তাকে অনুসরণ করবেন এবং লুদ্দের দরজার কাছে তাকে ধরে হত্যা করবেন।”—সহীহ মুসলিম, ২৯৩৭।

অতএব, দাজ্জালের পরিণতি মানুষের হাতে নয়; আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ঈসা (আ.)-এর হাতে তার মৃত্যু হবে।

ঈসা (আ.) নতুন শরিয়ত নিয়ে আসবেন না : তিনি মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মতের মধ্যে অবতরণ করবেন এবং ইসলামের শরিয়ত অনুসারেই বিচার করবেন। কুরআন বলে:

وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَٰكِن شُبِّهَ لَهُمْ

“তারা তাকে হত্যা করেনি এবং তাকে শূলেও চড়ায়নি; বরং তাদের কাছে বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ করে দেওয়া হয়েছিল।” —সূরা আন-নিসা, ৪:১৫৭।

দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায় : দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য রাসূল ﷺ আমাদের একাধিক ব্যবস্থা শিখিয়েছেন।

১. সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়াত :  রাসূল ﷺ বলেছেন:

مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنَ الدَّجَّالِ

“যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জাল থেকে সুরক্ষিত থাকবে।”—সহীহ মুসলিম, ৮০৯।

সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় প্রথম দশ আয়াতের উল্লেখ রয়েছে; অন্য বর্ণনায় শেষ দশ আয়াতের কথাও এসেছে।—সহীহ মুসলিম, ৮০৯।

২. দাজ্জালের কাছে না যাওয়া : রাসূল ﷺ বলেছেন:

مَنْ سَمِعَ بِالدَّجَّالِ فَلْيَنْأَ عَنْهُ

“যে ব্যক্তি দাজ্জালের কথা শুনবে, সে যেন তার থেকে দূরে থাকে।” —সুনান আবু দাউদ, ৪৩১৯। কারণ মানুষ নিজের ঈমানের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হলেও দাজ্জালের ফিতনার সামনে বিভ্রান্ত হতে পারে।

৩. সলাতে আশ্রয় প্রার্থনা : রাসূল ﷺ আমাদের শিখিয়েছেন:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা এবং মসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।” —সহীহ মুসলিম, ৫৮৮।

দাজ্জাল সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা :

  • ভুল ধারণা ১: “দাজ্জাল কিয়ামতের ঠিক আগে কোনো এক দম্পতির ঘরে নতুন করে জন্ম নেবে।”
  • সঠিক তথ্য: হাদীসের স্পষ্ট প্রমাণ অনুযায়ী সে বহু আগে থেকেই সৃষ্টি হয়ে বেঁচে আছে এবং একটি নির্দিষ্ট দ্বীপে আল্লাহর আদেশে বন্দী অবস্থায় দিন গুনছে। শেষ যামানায় তার কেবল ‘খুরুজ’ বা প্রকাশ ঘটবে।
  •  ভুল ধারণা ২: “দাজ্জাল কোনো মানুষ নয়, এটি পশ্চিমা সভ্যতা বা কোনো আধুনিক প্রযুক্তি।
  • সঠিক তথ্য: হাদীসে দাজ্জালকে স্পষ্ট ‘মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে (সে খাবে, পান করবে, তার চুল থাকবে, এক চোখ কানা হবে)। কোনো রূপক সভ্যতাকে লোহার শিকল দিয়ে দ্বীপে বেঁধে রাখা অসম্ভব। তাই সে রক্ত-মাংসের একজন মানুষ এবং মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় ফিতনা।

ফাতিমা বিন কায়িস রাযিয়াল্লাহু আনহা  বর্ণিত ‘হাদীসে জাসসাসা ’:

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়ন্তে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় মিম্বারে বসে গেলেন। অতঃপর বললেন, প্রত্যেকেই আপন আপন স্থানে বসে যাও। তারপর তিনি বললেন, তোমরা কি জান, আমি কি জন্য তোমাদেরকে সমবেত করেছি? সাহাবায়ে কিরাম বললেন, আল্লাহ ও তার রসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ আমি তোমাদেরকে কোন আশা বা ভয়-ভীতির জন্য জমায়েত করিনি। তবে আমি তোমাদেরকে কেবল এজন্য জমায়েত করেছি যে, তামীম আদ দারী (রাযিঃ) প্রথমে খ্রীস্টান ছিল। সে আমার কাছে এসে বাই’আত গ্রহণ করেছে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। সে আমার নিকট এমন একটি কাহিনী বর্ণনা করেছে যদ্বারা আমার সে বর্ণনার সত্যায়ন হয়ে যায়, যা আমি দাজ্জালের ব্যাপারে তোমাদের নিকট বর্ণনা করেছিলাম।

সে আমাকে বলেছে যে, একবার সে লাখ্‌ম ও জুযাম গোত্রের ত্রিশজন লোকসহ একটি সামুদ্রিক জাহাজে আরোহণ করেছিল। সামুদ্রিক ঝড় এক মাস পর্যন্ত তাদেরকে নিয়ে খেলা করতে থাকে। অতঃপর সূর্যাস্তের সময় তারা সমুদ্রের এক দ্বীপে আশ্রয় গ্রহণ করে। তারপর তারা ছোট ছোট নৌকায় বসে ঐ দ্বীপে প্রবেশ করে। দ্বীপে নামতেই জন্তুর ন্যায় একটি জিনিস তাদের দেখতে পায়। তার পূর্ণ দেহ পশমে ভরা ছিল। পশমের কারণে তার আগা-পাছা চেনার উপায় ছিল না। লোকেরা তাকে বলল, হতভাগা, তুই কে? সে বলল, আমি জাস্‌সা-সাহ। লোকেরা বলল, “জাস্‌সা-সাহ! আবার কি? সে বললঃ ঐ যে গীর্জা দেখা যায়, সেখানে চলো। সেখানে এক লোক গভীর আগ্রহে তোমাদের অপেক্ষা করছে। তামীম আদ দারী (রাযিঃ) বলেন, তার মুখে এক লোকের কথা শুনে আমরা ভয়ে শঙ্কিত হলাম যে, সে আবার শাইতান (শয়তান) তো নয়! আমরা দ্রুত পদব্রজে গীর্জায় প্রবেশ করতেই এক দীর্ঘাকৃতির এক লোককে দেখতে পেলাম। যা ইতোপূর্বে এমন আমরা আর কক্ষনো দেখিনি। লোহার শিকলে বাঁধা অবস্থায় দু’ হাটুর মধ্য দিয়ে তার উভয় হাত ঘাড়ের সাথে মিলানো।

আমরা তাকে বললাম, তোর সর্বনাশ হোক, তুই কে? সে বলল, তোমরা আমার সন্ধান কিছু না কিছু পেয়েই গেছ। এখন তোমরা বলো, তোমাদের পরিচয় কি? তারা বলল, আমরা আরবের বাসিন্দা। আমরা সমুদ্রে নৌকায় চড়ে ভ্রমণ করছিলাম। আমরা সমুদ্রকে উত্তাল তরঙ্গে উদ্বেলিত অবস্থায় পেয়েছি। এক মাস পর্যন্ত ঝড়ের কবলে থেকে অবশেষে আমরা তোমার এ দ্বীপে এসে পৌছেছি। অতঃপর ছোট ছোট নৌকায় আরোহণ করে এ দ্বীপে আমরা প্রবেশ করেছি। এখানে আমরা একটি সর্বাঙ্গ পশমে আবৃত জন্তুকে দেখতে পেয়েছি। পশমের মাত্রাতিরিক্তের কারণে আমরা তার আগা-পাছা চিনতে পারছি না। আমরা তাকে বলেছি, তোর সর্বনাশ হোক! তুই কে? সে বলেছে, সে নাকি জাসসা-সাহ। আমরা বললাম, জাসসা-সাহ! আবার কি? তখন সে বলেছে, ঐ যে গীর্জা দেখা যায়, তোমরা সেখানে চলো। সেখানে এক লোক গভীর আগ্রহে তোমাদের অপেক্ষায় আছে। তাই আমরা দ্রুত তোর কাছে এসে গেছি। আমরা তার কথায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি না জানি এ আবার কোন জিন ভূত কিনা?

অতঃপর সে বলল, তোমরা আমাকে বাইসানের খেজুর বাগানের সংবাদ বলো। আমরা বললাম, এর কোন বিষয়টি সম্পর্কে তুই সংবাদ জানতে চাচ্ছিস? সে বলল, বাইসানের খেজুর বাগানে ফল আসে কি না, এ সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করছি। তাকে আমরা বললাম, হ্যাঁ, আছে। সে বলল, সেদিন নিকটেই যেদিন এগুলোতে কোন ফল ধরবে না। তারপর সে বলল, আচ্ছা, তিবরিয়্যা সমুদ্রের ব্যাপারে আমাকে অবগত করো। আমরা বললাম, এর কোন বিষয় সম্পর্কে তুই আমাদের থেকে জানতে চাচ্ছিস? সে বলল, এর মধ্যে পানি আছে কি? তারা বলল, হ্যাঁ, সেখানে বহু পানি আছে। অতঃপর সে বলল, সেদিন বেশি দূরে নয়, যখন এ সাগরে পানি থাকবে না। সে আবার বলল, ’যুগার’ এর ঝর্ণার ব্যাপারে তোমরা আমাকে অবহিত করো। তারা বলল, তুই এর কি সম্পর্কে আমাদের নিকট জানতে চাচ্ছিস? সে বলল, এর ঝর্ণাতে পানি আছে কি? আর এ জনপদের লোকেরা তাদের ক্ষেত্রে এ ঝর্ণার পানি দেয় কি? আমরা বললাম, হ্যাঁ, এতে অনেক পানি আছে এবং এ জনপদের লোকেরা এ পানির মাধ্যমেই তাদের ক্ষেত আবাদ করে।

সে আবার বলল, তোমরা আমাকে উম্মীদের নবীর ব্যাপারে খবর দাও। সে এখন কি করছে? তারা বলল, তিনি মক্কাহ থেকে হিজরত করে মদীনায় চলে এসেছেন। সে জিজ্ঞেস করল, আরবের লোকেরা তার সাথে যুদ্ধ করেছে কি? আমরা বললাম, হ্যাঁ, করেছে। সে বলল, সে তাদের সঙ্গে কিরূপ আচরণ করেছে। আমরা তাকে খবর দিলাম যে, তিনি আরবের পার্শ্ববর্তী এলাকায় জয়ী হয়েছেন এবং তারা তার বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে। সে বলল, এ কি হয়েই গেছে? আমরা বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, বশ্যতা স্বীকার করে নেয়াই জনগণের জন্য কল্যাণকর ছিল।

এখন আমি নিজের ব্যাপারে তোমাদেরকে বলছি, আমিই মাসীহ দাজ্জাল। অতি সত্ত্বরই আমি এখান থেকে বাইরে যাবার অনুমতি পেয়ে যাব। বাইরে যেয়ে আমি সমগ্র ভূ-পৃষ্ঠ প্রদক্ষিণ করব। চল্লিশ দিনের ভেতর এমন কোন জনপদ থাকবে না, যেখানে আমি প্রবেশ না করব। তবে মক্কাহ্ ও তাইবাহ এ দুটি স্থানে আমার প্রবেশ নিষিদ্ধ। যখন আমি এ দু’টির কোন স্থানে প্রবেশের ইচ্ছা করব, তখন এক ফেরেশতা উন্মুক্ত তরবারি হাতে সম্মুখে এসে আমাকে বাধা দিবে। এ দুটি স্থানের সকল রাস্তায় ফেরেশতাদের পাহারা থাকবে।

বর্ণনাকারী বলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ছড়ি দ্বারা মিম্বারে আঘাত করে বললেন, এ হচ্ছে তাইবাহ, এ হচ্ছে তাইবাহ, এ হচ্ছে তাইবাহ। অর্থাৎ- তাইবাহ অর্থ এ মদীনাই। সাবধান! আমি কি এ কথাটি ইতোপূর্বে তোমাদেরকে বলিনি? তখন লোকেরা বলল, হ্যাঁ, আপনি বলেছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তামীম আদ দারীর কথাটি আমার খুবই ভালো লেগেছে। যেহেতু তা সামঞ্জস্যপূর্ণ আমার ঐ বর্ণনার, যা আমি তোমাদেরকে দাজ্জাল, মদীনাহ ও মক্কাহ বিষয়ে ইতোপূর্বে বলেছি। জেনে রেখ। উল্লেখিত দ্বীপ সিরিয়া সাগরে অথবা ইয়ামান সাগরের পার্শ্বস্থ সাগরের মাঝে অবস্থিত। যা পৃথিবীর পূর্বদিকে অবস্থিত, পৃথিবীর পূর্বদিকে অবস্থিত, পৃথিবীর পূর্বদিকে অবস্থিত। এ সময় তিনি নিজ হাত দ্বারা পূর্ব দিকে ইশারাও করলেন। বর্ণনাকারী ফাতিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) বলেন, এ হাদীস আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সংরক্ষণ করেছি।”—সহীহ মুসলিম, ২৯৪২।

হাদীসটির সারমর্ম ঃ ফাতিমা বিনতে কায়েস (রা.)  কর্তৃক বর্ণিত উপরে উল্লেখিত দীর্ঘ হাদীসটিকে (যা হাদীসে জাসসাসা নামে পরিচিত) ঘটনার ক্রমানুসারে পয়েন্ট আকারে নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো:

  • রাসূলুল্লাহ -এর বিশেষ বার্তা ও সমাবেশ: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষে হাস্যোজ্জ্বল মুখে মিম্বারে বসেন এবং সাহাবীদের উদ্দেশ্যে জানান যে, কোনো ভয় বা আশার খবর নয়, বরং তামীম আদ-দারী (রাঃ)-এর গ্রহণ করা ইসলাম এবং তাঁর দেখা একটি বিশেষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতেই সকলকে একত্রিত করা হয়েছে।
  • তামীম আদ-দারীর সমুদ্র যাত্রা: তামীম আদ-দারী (রাঃ) আগে খ্রিষ্টান ছিলেন। তিনি লাখ্‌ম ও জুযাম গোত্রের ৩০ জন সঙ্গীসহ নৌ-ভ্রমণে বের হলে টানা এক মাস সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়েন এবং অবশেষে সূর্যাস্তের সময় এক অচেনা দ্বীপে গিয়ে আশ্রয় নেন।
  • জাসসাসার সাথে সাক্ষাৎ: দ্বীপে নামার পর তাঁরা পশমে আবৃত এক অদ্ভুত প্রাণীর দেখা পান, যার চুল এত বেশি ছিল যে সামনে-পিছনে চেনা যাচ্ছিল না। সে নিজের পরিচয় দেয় জাসসাসা এবং তাদেরকে কাছের একটি গির্জায় অপেক্ষারত এক ব্যক্তির কাছে যেতে বলে।
  • গির্জায় আবদ্ধ দাজ্জাল: জাসসাসার কথায় ভীত হয়ে তাঁরা দ্রুত গির্জায় প্রবেশ করে বিশাল আকৃতির এক লোককে লোহার শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। তার দুই হাত হাঁটু থেকে ঘাড় পর্যন্ত শক্তভাবে বাঁধা ছিল।
  • দাজ্জালের প্রশ্নসমূহ:

Leave a Reply