সংক্ষিপ্ত হাজ্জ ও উমরাহ গাইড

  সংক্ষিপ্ত  ঃ  উমরাহ ও হাজ্জ গাইড

            [পশ্চিমবাংলা ও বাংলাদেশ থেকে যারা উমরাহ বা হাজ্জে যান তাদের সুবিধার্থে পুস্তিকাটি রচিত]

                                                                                                            লেখক ঃ মোঃ তাজাম্মুল হক আস-সালাফী

সম্পাদনায় ঃ শাইখ আব্দুল্লাহ সালাফী হাফেযাহুল্লাহ ও শাইখ আব্দুল আযীয বিন ইউসুফ মাদানী হাফেযাহুল্লাহ

  • হাজ্জ একটি ফরয ইবাদত
  • ইসলামের ৫টি খুঁটির মধ্যে একটি হল হাজ্জ। এটি একটি মালী ও বাদানী ইবাদত অর্থাৎ এতে মালের ইবাদত হয় এবং শরীরেরও ইবাদত হয়। এই ফরয ইবাদত সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন-
  • إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ (96) فِيهِ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَقَامُ إِبْرَاهِيمَ وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آمِنًا وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ (97)
  • অর্থ-নিশ্চয় প্রথম ঘর যেটি মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে, েসটি বাক্বায় অর্থাৎ মক্কায় অবস্থিত। যা বরকতময় ও বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াত । তাতে রয়েছে স্পষ্ট নির্দশনসমূহ ও মাক্বামে ইব্রাহীম। সেই ঘরে যে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হয়ে যাবে এবং সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হাজ্জ করা ফরয। আর যে হাজ্জ করতে অস্বীকার করবে, তার জেনে রাখা ভালো যে, আল্লাহ জগতবাসীর মুখাপেক্ষী নন- সূরা আলে ইমরান ঃ ৯৬-৯৭।

بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ

  • ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি ঃ ১। এই মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোনো সত্য  ইলাহ্ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ আল্লাহ্‌র রসূল, ২। স্বলাত কায়েম করা, ৩। যাকাত দেওয়া, ৪। হাজ্জ করা এবং ৫। রমাযান মাসের সিয়াম পালন করা- ‍বুখারী-৮।
  • হাজ্জ ফরয হয়ে গেলে
  • আর্থিকভাবে হাজ্জ ফরয হওয়ার পর বিলম্ব না করে হাজ্জ করার জন্য প্রয়োজনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী। বৃদ্ধ পিতা-মাতার সেবা করা, আইনী জটিলতা, শারিরীক অক্ষমতা ইত্যািদ শারয়ী কারণ ব্যতীত হাজ্জ করতে বিলম্ব করা যাবে না। বিনা শারয়ী কারণে বিলম্ব করা কাবীরা গুনাহ। উক্ত ব্যক্তিকে তাওবা করতে হবে এবং দ্রুত হাজ্জ পালন করতে হবে। কোনো কারণে হাজ্জ সম্পন্ন করার পূর্বে মৃত্যু বরণ করলে, মৃত ব্যক্তির সম্পদ থেকে কাউকে বদলী হাজ্জ করাতে হবে, না হলে মৃত ব্যক্তিকে ফরয হাজ্জ আদায় না করার জন্য শাস্তি ভোগ করতে হবে। আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম বলেন-

عَنْ أَبِي رَزِينٍ الْعُقَيْلِيِّ، أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ، لَا يَسْتَطِيعُ الْحَجَّ، وَلَا الْعُمْرَةَ، وَلَا الظَّعْنَ قَالَ: «حُجَّ عَنْ أَبِيكَ، وَاعْتَمِرْ»

  • অর্থ-আবূ রাযীন আল-উকায়লী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নাবী স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা অতিশয় বৃদ্ধ। তিনি হাজ্জ অথবা উমরা করতে বা বাহনে বসে থাকতে অক্ষম। নাবী স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম বলেনঃ তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হাজ্জ ও উমরা আদায় করো। ইবনু মাজাহ-২৯০৬, স্বহীহ-আলবানী। যদি এমন কোনো বৃদ্ধ ব্যক্তির জন্য, যার পক্ষে ভ্রমণ ও হাজ্জের বিধি বিধান পালন করা কঠিন, তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ হাজ্জ করতে পারে, তাহলে সেই শক্তিশালী ও সক্ষম ব্যক্তির কী হবে যিনি হাজ্জ না করেই মারা গেছেন? তার পক্ষ থেকে অন্য কারো হাজ্জ করা তো আরও বেশি যুক্তিযুক্ত (ইবনু বায-রাহেমাহুল্লাহ)।
  • প্রকাশ থাকে েয,
  • ক) হাজ্জ ফরয হয়ে গেলে উমরাহ পালন করে হাজ্জের ফরয আদায় হবে না। উমরাহ পালন করলেও তাকে পুনরায় হাজ্জ করতে হবে।
  • খ) যদি কেউ হাজ্জে তামাত্তু করে, তাহলে এক সঙ্গে তার উমরাহ ও হাজ্জের ফরয আদায় হয়ে যাবে।
  • গ) আর যদি কারো কেবল উমরাহ করার আর্থিক সক্ষমতা থাকে হাজ্জের খরচ বহন করার শক্তি না থাকে, তাহলে তার জন্য কেবল উমরাহ ফরয। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ

 তোমরা হাজ্জ ও উমরাহ পালন করো। সূরা বাক্বারা-১৯৬। অত্র আল্লাহ তাআলা হাজ্জ ও উমরাহ পালন করার আদেশ করেছেন।

আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামকে জিব্রীল আলাইহিস সালাম জিজ্ঞাসা করেন ইসলাম কী? তার উত্তরে তিনি স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম বলেন-

الْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَأَنْ تُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ وَتَعْتَمِرَ، وَتَغْتَسِلَ مِنَ الْجَنَابَةِ، وَأَنْ تُتِمَّ الْوُضُوءَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ

ইসলাম হল এই মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং মুহাম্মােদ আল্লাহর রসূল, স্বলাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, াজ্জ ও উমরাহ পালন করা, যৌন অপবিত্রতার পর পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসল করা, সঠিকভাবে ওযু সম্পন্ন করা এবং রমজান মাসে িস্বয়াম রাখা। স্বহীহ ইবনু খুযাইমাহ-১।

প্রকাশ থাকে যে, উমরাহ পালন ফরয এই মর্মে আরো অনেক দলীল রয়েছে। ইমাশ শাফেয়ী, আহমাদ বিন হাম্বাল, ইমাম বুখারী, ইবনু বায, স্বলেহ উসাইমিন প্রমুখ বিদ্বানগণ উমরাহকে ফরয বলেছেন।

  • বদলী হাজ্জ
  • ১) যে সমস্ত ব্যক্তিগণ হাজ্জ ফরয হওয়ার পরে শারিরীক অক্ষমতার কারণে হাজ্জ করতে পারছেন না- তাঁর দায়িত্ব হল বেঁচে থাকাকালীন নিজের সম্পদ খরচ করে কাউকে দিয়ে বদলী হাজ্জ করিয়ে নেওয়া।
  • ২) যে সমস্ত ব্যক্তিগণ হাজ্জ ফরয হওয়ার পর হাজ্জ আদায় না করে মৃত্যু বরণ করেছেন, তিনি হাজ্জর জন্য অসীয়্যাত করুন আর না করুন- তাঁর উত্তরাধিকারীদের দায়িত্ব হল উক্ত ব্যক্তির মীরাস বন্টনের পূর্বে হাজ্জের খরচ দিয়ে দ্রুত কাউকে দিয়ে বদলী হাজ্জ করানো। প্রকাশ থাকে যে, যদি কোনো ব্যক্তি মারা যায় এবং তার ফরয হাজ্জ বাকি থাকে,  তাহলে এটি তার একটি ঋণ হিসেবে গণ্য হবে এবং মীরাস বণ্টনের পূর্বে তার সম্পত্তি থেকে তা পরিশোধ করতে হবে অর্থাৎ বদলী হাজ্জ করাতে হবে (আলমুহাল্লা লে ইবনে হাযম-৭/৬২)। আল্লাহ তাআলা বলেন-
  • مِنۡۢ بَعۡدِ وَصِیَّۃٍ یُّوۡصِیۡ بِهَاۤ اَوۡ دَیۡنٍ
  • অর্থ-অসীয়্যাত পালনের পর, যা দ্বারা সে অসীয়্যাত করেছে অথবা ঋণ পরিশোধের পর (মীরাস বন্টন করা হবে)। সূরা নিসা-১১।
  • আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম এক মহিলাকে তার মাতার ঋণ সম্পর্কে বলেন ঃ আল্লাহর ঋণ অবশ্যই পরিশেধা করত হবে। হাদীসটি নীচে বর্ণিত হল-

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، أَنَّ امْرَأَةً أَتَتْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ، فَقَالَ: «أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَيْهَا دَيْنٌ أَكُنْتِ تَقْضِينَهُ؟» قَالَتْ: نَعَمْ، قَالَ: «فَدَيْنُ اللهِ أَحَقُّ بِالْقَضَاءِ»

  • ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে,  জনৈকা মহিলা রসুলুল্লাহ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামের নিকটে এসে বললেন, আমার মা মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর এক মাসের সাওম কাযা আছে। এ কথা শুনে তিনি বললেন, যদি তাঁর উপর  কোনো  ঋণ থাকত , তাহলে তুমি কি তা পরিশোধ করতে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করা অধিক উপযুক্ত। মুসলিম-১১৪৮।
  • সুতরাং আল্লাহর ইবাদত যা বান্দার জন্য ফরয যেমন স্বিয়াম ও হাজ্জ যদি মৃত্যুর পূর্বে তা আদায় না করা হয়, সেগুলো আল্লাহর ঋণ হিসাবে গণ্য হবে এবং ওয়ািরসদেরকে আদায় করতে হবে।
  • যে ব্যক্তি বদলী হাজ্জ করবেন তাকে প্রথমে নিজের হাজ্জ আদায় করতে হবে।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمِعَ رَجُلًا يَقُولُ: لَبَّيْكَ عَنْ شُبْرُمَةَ، قَالَ: «مَنْ شُبْرُمَةُ؟» قَالَ: أَخٌ لِي أَوْ قَرِيبٌ لِي قَالَ: «حَجَجْتَ عَنْ نَفْسِكَ؟» قَالَ: لَا، قَالَ: «حُجَّ عَنْ نَفْسِكَ ثُمَّ حُجَّ عَنْ شُبْرُمَةَ»

আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রসুলুল্লাহ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, আমি শুবরুমাহ্’র পক্ষ হতে (হাজ্জ পালনের উদ্দেশে) উপস্থিত হয়েছি। তিনি স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম বললেন, শুবরুমাহ্ কে? সে বললো, আমার ভাই অথবা বললো, আমার নিকটাত্মীয়। তখন তিনি স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তুমি নিজের হাজ্জ করেছো কি? সে বললো, জি না। তিনি স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম বললেন, তবে (প্রথমে) নিজের হাজ্জ করো। পরে শুবরুমাহ্’র পক্ষ হতে হাজ্জ করবে। আবূ দাঊদ-১৮১১, স্বহীহ-আলবানী

  • মাবরূরের বা কবুল হাজ্জের গুরুত্ব 
  • মাবরূর হাজ্জের প্রতিদান সম্পর্কে আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেন

العُمْرَةُ إِلَى العُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا، وَالحَجُّ المَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الجَنَّةُ

  • অর্থ- এক উমরাহ থেকে অন্য উমরাহর মধ্যবর্তী সময়ের জন্য গুনাহের কাফফারা হয়। হাজ্জে মাবরূর বা কবুল হাজ্জের জান্নাত ব্যতীত কোনো প্রতিদান নেই। বুখারী-১৭৭৩
  • হাজ্জ মাবরূর বা কবুল হওয়ার শর্তাবলী
  • হাজ্জে মাবরুর (কবুল হাজ্জ) কোনো নির্দিষ্ট সময়ে হয় না, বরং এটি হাজ্জের আমল, নিয়্যাত ও ফলাফলের উপর নির্ভরশীল, যা হাজ্জের সময় থেকে শুরু করে াজ্জের পরে ব্যক্তির জীবনে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যেমন পাপ থেকে দূরে থাকা, উন্নত চরিত্র ও আল্লাহর প্রতি একাগ্রতা বৃদ্ধি পাওয়া।  এটি তখনই হয় যখন হাজ্জে কোনো শির্ক , লোক দেখানো ভাব (রিয়া), সুনাম-সুখ্যাতি পাাওয়ার বাসনা বা পাপ মিশ্রিত না হয়  এবং াজ্জের পর ব্যক্তির জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে যেমন বিনয়ী হওয়া ও ভালো কাজে মনোযোগী হওয়া। প্রকাশ থাকে যে, হাজ্জ মাবরুর বা মাকবুল হওয়ার জন্য হালাল উপার্জন এবং হালাল ও পবিত্র জীবিকা আহার করাও জরুরী। আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম বলেন-

أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ، فَقَالَ: (يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا، إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ) [المؤمنون: 51] وَقَالَ: (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ) [البقرة: 172] ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ، يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ؟»

  • অর্থ-‘হে মানুষ! নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া আর কিছু গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ মুমিনদেরকে সেই কাজের নির্দেশ দিয়েছেন, যার নির্দেশ নাবীদেরকে দিয়েছেন। সুতরাং মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে রসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু  থেকে আহার করো এবং সৎকর্ম করো।’ (সূরা মু’মিনূন-৫১) তিনি আরো বলেন,“ হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছি তা থেকে পবিত্র বস্তু আহার কর এবং আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো ; যদি তোমরা শুধু তাঁরই ইবাদত করে থাক।’’ (সূরা বাক্বারাহ-১৭২)। অতঃপর তিনি সেই লোকের কথা উল্লেখ করে বললেন, যে এলোমেলো চুলে, ধূলামলিন পায়ে সুদীর্ঘ সফরে থেকে আকাশ পানে দু’ হাত তুলে ‘ইয়া রবব্! ‘ইয়া রবব্!’ বলে দুআ করে। অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক-পরিচ্ছদ হারাম এবং হারাম বস্তু দিয়েই তার শরীর পুষ্ট হয়েছে। তবে তার দুআ কিভাবে কবুল করা হবে?’’ মুসলিম-১০১৫।
  • সুতরাং এই রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয ইবাদত সঠিকভাবে সম্পাদন করাও জরুরী। হাজ্জ পালনকারীগণ যেন কুরআন ও স্বহীহ সুন্নাহ অনুযায়ী হাজ্জের সমস্ত রুকন, ফরয বা ওয়াজেব ও সুন্নাতসমূহ সঠিকভাবে পালন করতে পারেন, তার উদ্দেশ্যেই সহজ-সরল এবং সংিক্ষপ্তভাবে উমরাহ ও হাজ্জ গাইড পুস্তিকাটি রচনা করা হয়েছে।
  • হােজ্জর প্রকারভেদ ঃ
  • ক) ইফরাদ ঃ  যে হাজ্জে কেবল হাজ্জের জন্যই ইহরাম বাঁধতে হয় এবং কেবল হাজ্জের রুকন, ফরয বা ওয়াজেব ও সুন্নাহ পালন করতে হয়। উমরাহ করতে হয় না।
  • খ) ক্বিরান ঃ যে হাজ্জে একবার ইহরাম বেঁেধই উমরাহ ও হাজ্জ সম্পন্ন করতে হয়।
  • গ) তামাত্তু ঃ হে হাজ্জে দুবার ইহরাম বাঁধতে হয়। একবার উমরাহর জন্য এবং আরেকবার হাজ্জের জন্য। ভারত, বাংলােদশের হাজ্জযাত্রীরা সাধারণতঃ তামাত্তু হাজ্জই করে থাকেন। তাই এই গাইডটিতে কেবলমাত্র তামাত্তু হাজ্জ পালনকারীদের বিধান বর্ণিত হল।
  • সফরের আদব ঃ যেভাবে শুরু ও সম্পন্ন করবেন

১) দু রাকাত সফরের স্বলাত

  • হাজ্জ বা উমরাহর জন্য বাড়ি থেকে বেরোনোর দিন বাড়িতে দু রাকাত সফরের স্বলাত আদায় করবেন।  আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম বলেন-
  • 1323 – ” إذا خرجت من منزلك فصل ركعتين يمنعانك من مخرج السوء، وإذا دخلت إلى منزلك فصل ركعتين يمنعانك من مدخل السوء “
  • অর্থ-আপনি যখন ঘর থেকে বের হবেন, তখন পথের সমস্ত প্রকার অশুভ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দুই রাকাত স্বলাত আদায়  করুন এবং যখন ঘরে প্রবেশ করবেন, তখন প্রবেশের সময় সমস্ত প্রকার অশুভ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দুই রাকাত স্বলাত আদায় করুন (সিলসিলা স্বহীহা-১৩২৩, মুসনাদুল বাযযার-৮৫৬৭)।
  • ২) বাড়ি থেকে বের হওয়ার দুআ
  • বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বলবে-বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ। লা হাওলা অলা কুওআতা ইল্লা বিল্লাহ । অর্থ- আমি আল্লাহর উপর ভরসা করে তাঁর নাম নিয়ে যাত্রা শুরু করছি। তাঁর অনুমিত ব্যতীত কোনো কিছুই করার শক্তি ও সার্মথ্য নেই। আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম বলেন-

إِذَا خَرَجَ الرَّجُلُ مِنْ بَيْتِهِ فَقَالَ بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، قَالَ: يُقَالُ حِينَئِذٍ: هُدِيتَ، وَكُفِيتَ، وَوُقِيتَ، فَتَتَنَحَّى لَهُ الشَّيَاطِينُ، فَيَقُولُ لَهُ شَيْطَانٌ آخَرُ: كَيْفَ لَكَ بِرَجُلٍ قَدْ هُدِيَ وَكُفِيَ وَوُقِيَ؟ “

  • অর্থ- যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলবেঃ ’’বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’’ তখন তাকে বলা হয়, তুমি হেদায়াত প্রাপ্ত হয়েছো, রক্ষা পেয়েছো ও নিরাপত্তা লাভ করেছো। সুতরাং শয়তানরা তার থেকে দূর হয়ে যায় এবং অন্য এক শয়তান বলে, তুমি ঐ ব্যক্তিকে কি করতে পারবে যাকে পথ দেখানো হয়েছে, নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে এবং রক্ষা করা হয়েছ- আবূ দাঊদ-৫০৯৫, স্বহীহ-আলবানী।

৩) যানবাহনে সওয়ার হওয়ার দুআ

  • أَنَّ ابْنَ عُمَرَ عَلَّمَهُمْ؛ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا اسْتَوَى عَلَى بَعِيرِهِ خَارِجًا إِلَى سَفَرٍ، كَبَّرَ ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَ:
  • سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا، وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ
  • اللهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى، اللهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا، وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ، اللهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ، اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ، وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَالْأَهْلِ» ، وَإِذَا رَجَعَ قَالَهُنَّ وَزَادَ فِيهِنَّ: «آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ»
  • ইবনু উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম কোথাও সফরের উদ্দেশে তার উটে আরোহণের সময়
  • ক)  তিনবার বলতেন “আল্লহু আকবার” অর্থ-আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
  • খ) তারপর বলতেন-সুবহানাল্লাযী সাখখারা লানা হাযা অ মা কুন্না লাহু মুক্বরিনীন। অ ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনক্বালিবূন।  অর্থ ঃ পবিত্র-মহান সেই সত্তা যিনি যানবাহনগুলোকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন এমনাবস্থায় আমরা এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলাম না । আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী। (সূরা যুখরুফ ঃ ১৩-১৪)। এই টুকু বললেই যথেষ্ট।
  • গ) কিন্তু যারা চাইবেন তারা আরো বলবেন ঃ আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফী সাফারেনা হাযাল বিররা অত তাক্বওয়া, অ মিনাল আমালে মা তারযা, আল্লাহুম্মা হাওইন আলাইনা সাফারানা হাযা, বী আন্না বু’দাহু আল্লাহুম্মা আনতাস সাহিবু ফিস সাফার, অল খালীফাতু ফিল আহলে, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন অ’সাইস সাফারে অ কাবাতিল মানযার, অ সূল মুনক্বালাবি ফিল মালি অল আলী অর্থ-  হে আল্লাহ। আমাদের এ সফরে আমরা তোমার নিকট কল্যাণ, তাকওয়া এবং তোমার সন্তুষ্টিমূলক কাজের তাওফীক চাই। হে আল্লাহ! আমাদের এ সফর আমাদের জন্য সহাজ্জ করে দাও এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দাও। হে আল্লাহ! তুমিই (আমাদের) সফরসঙ্গী এবং পরিবারের তত্ত্বাবধানকারী। হে আল্লাহ! তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি সফরের কষ্ট, দুঃখজনক দৃশ্য এবং ফিরে এসে সম্পদ ও পরিবারের ক্ষতিকর পরিবর্তন থেকে।”-স্বহীহ মুসলিম-১৩৪২।
  • বাড়ি ফিরে উল্লিখিত দুআটি পড়বেন এবং তার সঙ্গে যোগ করবেন
  • آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ
  • উচ্চারণ-আয়িবূনা, তায়িবূনা, আবিদূনা লিরব্বিনা হামিদূন । অর্থ-আমরা আমাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী, তাওবাকারী, তাঁর ইবাদতকারী এবং প্রশংসাকারী।”
  • উমরাহ যেভাবে সম্পন্ন করবেন  [সাধারণ উমরাহ ও হাজ্জের তামাত্তুর উমরাহর নিয়ম একই]
  • [সাধারণ উমরাহ পালনকারী এবং হাজ্জে তামাত্তু পালনকারীর জন্য উমরাহর রুকন  তিনটি, একটি সুন্নাত]
  • সাধারণ উমরাহ ও হাজ্জে তামাত্তুর উমরাহর রুকনগুলি– ১) ইহরাম, ২) তাওয়াফ এবং ৩) সায়ী সুন্নাতটি হল- ৪) মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা।উমরাহকারী ও হাজ্জে তামাত্তুকারী উভয়ের জন্যই নিমোক্ত বিধানগুলো পালনীয়

) ইহরাম

  • ইহরাম সাধারণ উমরাহ এবং হাজ্জের উমাহর রুকন  সুতরাং ইহরাম না বাঁধলে অর্থাৎ নিয়্যাত না রলে সাধারণ উমরাহ ও হাজ্জের উমরাহ কবুল হবে না । আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম বলেন-

إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ»

  • অর্থ- প্রত্যেক কাজ নিয়্যাতের সাথে সম্পর্কিত। আর মানুষ তার নিয়্যাত অনুযায়ী ফল পাবে। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সন্তুষ্টির জন্য হিজরত করে, তার হিজরত প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের জন্যই। যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভের অথবা নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে- সেই উদ্দেশ্যেই হবে তার হিজরতের প্রাপ্য (স্বহীহুল বুখারী ঃ ১, আবূ দাঊদ-২২০১)। বিধায় কোনো মানুষের যদি উমরাহ বা হাজ্জের  উমরাহর ইহরাম বা নিয়্যাত শুদ্ধ না হয়, তাহলে তার উমরাহ বা হাজ্জ কবুল হবে না।

) ইহরাম যেভাবে বাঁধতে হবে

  • পুরুষ ঃ  পুরুষরা বিনা সিলাই এর ইহরামের কাপড় পরিধান করে বিমানের উপর মীক্বাতের সীমানায় ঢোকায় সময় বা স্থল পথে মীক্বাতের স্থান ক্রশ করার সময়  উচ্চ স্বরে বলবে ঃ

لَبَّيْكَ عُمْرَةً

উচ্চারণ ঃ লাব্বাইকা উমরাতান। অর্থ-আল্লাহ তোমার দরবারে হাজির (আবূ দাঊদ-১৭৯৫, মুসলিম-১২৩২)। অথবা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা উমরাতানও বলা যেতে পারে।

  • নারী ঃ মীক্বাতে গিয়ে নারারী নিজের পোষাকেই মুখ খুলে বা প্রয়োজনে চাদর দিয়ে আবৃত করে মনে মনে বলবে ঃ লাব্বাইক উমরাতান অথবা আল্লাহুম্মা লাববাইক উমরাতান। 
  • ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ
  • চুল, লোম অথবা নখ কাটা যাবে না। আল্লাহ তাআল বলেন-

وَ لَا تَحۡلِقُوۡا رُءُوۡسَكُمۡ حَتّٰی یَبۡلُغَ الۡهَدۡیُ مَحِلَّهٗ

 আর তোমরা তোমাদের মাথা মুন্ডন করো না, যতক্ষণ না পশু তার যথাস্থানে পৌঁছে। বাক্বারা-১৯৬

  •  তবে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে নিজে নিজেই পড়ে যায় অথবা চুল বা নখ ভুলে কিংবা হুকুম না জেনে কেটে ফেলে তা হলে কিছুই দিতে হবে না।
  • চুলের অসুবিধার কারণে চুল কাটা যাবে িফদিয়া দিয়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ

আর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ কিংবা তার মাথায় যদি কোনো কষ্ট থাকে, তাহলে ( সে চুল কাটবে) এবং স্বিয়াম কিংবা সদাকা অথবা পশু যবেহ এর মাধ্যমে ফিদয়া দেবে। সূরা বাক্বারা-১৯৬

  • ইহরাম অবস্থায় শরীরে অথবা কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না। তবে ইহরামের পূর্বে শরীরে ব্যবহৃত সুগন্ধির কোনো দাগ থেকে গেলে তা দোষণীয় নয়। তবে তার দাগ কাপড়ে লেগে থাকলে তা ধুয়ে ফেলতে হবে।
  •  ইহরামের কাপড় বা মাথায় লেগে থাকে এমন কিছু দিয়ে মাথা ঢাকা যাবে না, যেমন: টুপি, রুমাল, পাগড়ী ইত্যাদি। ভুলে বা হুকুম না জেনে এধরণের কোনো বস্তু দিয়ে মাথা ঢেকে ফেললে স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে অথবা হুকুম জানার সাথে সাথে তা সরিয়ে ফেলা ওয়াজিব। তবে এর জন্য কোনো জরিমানা দিতে হবে না।
  •  ইহরাম অবস্থায় শরীরের পুরো অংশে অথবা কিছু অংশে সেলাই করা কাপড়, যেমন: জুব্বা, জামা, টুপি, সেলোয়ার, মোজা ইত্যাদি পরা জায়েয নেই।

عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ؟ قَالَ: «لَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ الْقَمِيصَ، وَلَا الْعِمَامَةَ، وَلَا الْبُرْنُسَ، وَلَا السَّرَاوِيلَ، وَلَا ثَوْبًا مَسَّهُ وَرْسٌ وَلَا زَعْفَرَانٌ وَلَا الْخُفَّيْنِ، إِلَّا أَنْ لَا يَجِدَ نَعْلَيْنِ فَلْيَقْطَعْهُمَا، حَتَّى يَكُونَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ

সালিম  রাহেমাহুল্লাহ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন ঃ নাবী স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হল যে, মুহরিম ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় কী পরিধান করবে? তিনি বললেন, মুহরিম ব্যক্তি জামা, পাগড়ী, টুপি, পায়জামা, জাফরান বা ওয়ার্‌স দ্বারা রঞ্জিত কাপড় এবং মোজা পরিধান করবে না। কিন্তু চপ্পল না পেলে সে টাখনুর নীচ থেকে মোজা কেটে তা পরিধান করতে পারবে।  মুসলিম-১১৭৭।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ: أَنَّ رَجُلًا وَقَصَهُ بَعِيرُهُ وَنَحْنُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ مُحْرِمٌ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ، وَكَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْنِ، وَلاَ تُمِسُّوهُ طِيبًا، وَلاَ تُخَمِّرُوا رَأْسَهُ، فَإِنَّ اللَّهَ يَبْعَثُهُ يَوْمَ القِيَامَةِ مُلَبِّيًا

ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তির উট তার ঘাড় মটকে দিল। (ফলে সে মারা গেল)। আমরা তখন রসূলুল্লাহ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। সে ছিল ইহ্‌রাম অবস্থায়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল করাও এবং দু’ কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা আবৃত করো না। কেননা, আল্লাহপাক কিয়ামতের দিন তাকে তালবিয়্যাহ বলতে বলতে উঠাবে-  বুখারী-১২৬৭।

  • ইহরাম অবস্থায় কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া ও বিবাহ বন্ধনের অনুষ্ঠান করা জায়েয নেই।  সেটা নিজের জন্য হোক অথবা অন্য কারো জন্য। আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম বলেন-
  • لَا يَنْكِحُ الْمُحْرِمُ، وَلَا يُنْكَحُ، وَلَا يَخْطُبُ

অর্থাৎ : মুহরিম নিজে বিয়ে করতে পারবে না, অন্যের বিয়ে দিতে পারবে না এবং বিয়ের প্রস্তাবও দিতে পারবে না”-মুসলিম-১৪০৯।

  • স্ত্রীর সাথে যৌন আচরণ অথবা উত্তেজনার সাথে আলিঙ্গন করা জায়েয নেই। গালি-মন্দ দেওয়া যাবে না এবং ভাষা খারাপ করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন-

الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ

হাজ্জের সময় নির্দিষ্ট মাসসমূহ। অতএব এই মাসসমূহে যে নিজের উপর হাজ্জ আরোপ করে নিল, তার জন্য হা্েজ্জ অশ্লীল ও পাপ কাজ এবং ঝগড়া-বিবাদ করা বৈধ নয়-সূরা বাক্বারা-১৯৭

  • ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য হাত মোজা পরা, নিকাব অথবা বোরকা দিয়ে চেহারা ঢেকে রাখা জায়েয নেই। তবে যদি কোনো গায়রে মাহরাম পুরুষ সামনে আসে, তাহলে ইহরাম থেকে মুক্ত স্বাভাবিক অবস্থায় যেভাবে পর্দা করে সেভাবে ওড়না বা অন্য কিছু দিয়ে মুখ ঢেকে নিবে।
  • ইহরাম অবস্থায় হোক বা অন্য কোনো অবস্থায়, কোনো মুসলিমের জন্য পবিত্র মক্কার হারাম এলাকায় পাওয়া কোনো দ্রব্য উঠিয়ে নেয়া জায়েয নেই। তবে যদি প্রচারের নিয়তে উঠিয়ে নেয়, তাহলে তা ভিন্ন কথা।

أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ لُقَطَةِ الْحَاجِّ

আবদুর রহমান ইবনু উসমান তায়মী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম হাজীদের হারানো বস্তু তুলে নিতে নিষেধ করেছেন। মুসলিম-১৭২৪

  • হারাম সীমানার ভিতরে কোনো গাছ কিংবা সবুজ ঘাস কাটা বা উঠানো কোনো মুসলিমের জন্যই জায়েয নেই, সে ইহরাম অবস্থায় থাকুক বা না থাকুক। আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম বলেন-

أَلاَ وَإِنَّهَا لَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ قَبْلِي، وَلَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ بَعْدِي، أَلاَ وَإِنَّهَا حَلَّتْ لِي سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ، أَلاَ وَإِنَّهَا سَاعَتِي هَذِهِ حَرَامٌ، لاَ يُخْتَلَى شَوْكُهَا، وَلاَ يُعْضَدُ شَجَرُهَا، وَلاَ تُلْتَقَطُ سَاقِطَتُهَا إِلَّا لِمُنْشِدٍ

জেনে রাখ, আমার পূর্বে কারো জন্য মক্কাকে হালাল করা হয়নি এবং আমার পরেও হালাল হবে না। জেনে রাখ, তাও আমার জন্য দিনের কিছু সময়ের জন্য বৈধ করা হয়েছিল। আরো জেনে রাখ যে, আমার এই কথা বলার মুহূর্তে আবার তা অবৈধ হয়ে গেছে। সেখানকার  কোনো কাঁটা কিংবা গাছ কাটা যাবে না এবং সেখানে পড়ে থাকা েকানো বস্তু কুড়িয়ে নেওয়া যাবে না। তবে ঘোষণা দেওয়ার জন্য তা নিতে পারবে। বুুখারী-১১২

  • ইহরাম অবস্থায় হোক বা অন্য কোনো অবস্থায়, পুরুষ বা নারীর জন্য হারামের সীমানায় কোনো স্থলপ্রাণী শিকার করা, ধাওয়া করা বা শিকার কাজে অন্যকে সহযোগিতা করা জায়েয নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَ حُرِّمَ عَلَیۡكُمۡ صَیۡدُ الۡبَرِّ مَا دُمۡتُمۡ حُرُمًا

আর স্থলের শিকার তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে যতক্ষণ তোমরা ইহরাম অবস্থায় থাক- সূরা মায়েদাহ-৯৬।

) তালবিয়্যাহ

  • তারপর নারীরা মনে মনে এবং পুরুষরা উচ্চ স্বরে তালবিয়্যাহ পড়তে থাকবে।
  • তালবিয়্যাহ হল
  • لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالمُلْكَ، لاَ شَرِيكَ لَكَ
  • উচ্চারণ-লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইক লা শারীকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা, অন নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাকা (স্বহীহুল বুখারী-১৫৪৯)। অর্থ-আমি হাযির হে আল্লাহ, আমি হাযির, আমি হাযির। আপনার েকানো অংশীদার নেই, আমি হাযির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও সকল নিয়ামত আপনার এবং কর্তৃত্ব আপনারই, আপনার কোনো অংশীদার নেই। কাবা দেখা পর্যন্ত তালবিয়্যাহ বলতে থাকবে। কাবা দর্শন করা মাত্র তালবিয়্যাহ বন্ধ করে দেবে।

) মাসজিদুল হারামে প্রবেশের সময় দুআ

  • মাসজিদুল হারামের ডান পা রেখে বলবেন
  • أَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ، وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ، وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ، مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

ক) উচ্চারণ-আউযুবিল্লাহিল আযীম, অবি অজহিহিল কারীম, অ সুলতানিহিল ক্বাদীম মিনাশ শায়তানির রাজীম (আবূ দাঊদ-৪৬৬, স্বহীহ-আলবানী)। অর্থ-আমি অভিশপ্ত শয়তান থেকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে, তাঁর মহিমান্বিত সত্তার কাছে এবং তাঁর চিরন্তন শক্তির কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

  • اللهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ

খ) উচ্চারণ- আল্লাহুম্মাফ তাহলী আবওয়াবা রাহমাতিক্ (স্বহীহ মুসলিম-৭১৩)। মাসজিদুল হারামে প্রবেশের পৃথক কোনো দুআ নেই। সুতরাং উপরে বর্ণিত দুটি দুআ এক সঙ্গে বা যে কোনো একটি দুআ পাঠ করে প্রবেশ করলেই যথেষ্ট হবে,  ইন শা আল্লাহ।

) তাওয়াফ (সূরা হাজ্জ-১৯) ঃ তাওয়াফ উমরাহ ও তামাত্তু হাজ্জের উমরাহর রুকন। তাওয়াফ না করলে উমরাহ ও  তামাত্তু হাজ্জ কবুল হবে না।

  • যেভাবে তাওয়াফ করবেন ঃ
  • ক) প্রথমে কাবা ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে হাজরে আসঅদের সামনা সামনি যেতে হবে। কাবাকে বাম হাতে রেখে ডান দিকে তাকালে বিশাল গেটের উপর সবুজ রংয়ের আলো চিহ্ন হিসাবে দেখতে পাবেন। হাজরে আসঅদ কাবা ঘরের দরজার পাশের কোণে অবস্থিত।
  • খ) সেখানে যাওয়ার পর পুরুষরা জতিবা করবে (সুনান আবূ দাঊদ ঃ ১৮৮৯)। ইজতিবা হল ইহরামের যে কাপড়টা গায়ে জড়ানো রয়েছে সেটাকে ডান বগলের নীচ দিয়ে টেনে বাম ঘাড়ের উপর রাখবে। যেন ডান ঘাড় ফাঁকা থাকে।
  • গ) অতঃপর  নারী ও পুরুষ উভয়েই ডান হাত দিয়ে হাজরে আসঅদের দিকে বিস্মিল্লাহে আল্লাহু আকবার বলে ইশারা করবে এবং তাওয়াফ শুরু করবে (মুসনাদ আহমাদ-৪৬২৮, বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সানাদটি স্বহীহ)। নারীরা সাধারণভাবে হাঁটবে কিন্তু পুরুষদের তিনবার রমল করতে হবে। ঘন ঘন পা ফেলে শরীর দুলিয়ে বীরদর্পে দ্রুত চলাকে রমল বলে। হাজরে আসঅদ থেকে মাক্বামে ইব্রাহীম পার করে হাতীম হয়ে রুকনে ইয়ামানী পর্যন্ত রমল করতে হবে এবং রুকনে ইয়ামানী থেকে হাজরে আসঅদ পর্যন্ত সাধারণভাবে হাঁটতে হবে (স্বহীহুল বুখারী-১৬০২)। রুকনে ইয়ামানী অর্থাৎ হাজরে আসঅদের ঠিক পূর্বের কোণ থেকে হাজরে আসঅদ পর্যন্ত বলবে

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

  • উচ্চারণ-রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাতাঁ অ ফিল আখেরাতে হাসানাতাঁ অ ক্বিনা আযাবান নার (আবূ দাঊদ-১৮৯২)। অর্থ- হে আমার রব!আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
  • হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করে মাক্বামে ইব্রাহীমের পাশ িদয়ে রুকনে ইয়ামেনী পর্যন্ত তাওয়াফ করতে করতে কুরআন েতলাওয়াত ও অন্যান্য যে কোনো যিকির আযকার করতে থাকবেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, এ স্থানে নির্দিষ্ট কোনো যিকিরি আযকার বর্ণিত হয়নি।
  •  হাজরে আসঅদে পৌঁছে এক তাওয়াফ পূর্ণ হবে। অতঃপর হাজরে আসঅদের দিকে ডান হাত দিয়ে ইশারা করে বলবে ঃ আল্লাহু আকবার এবং দ্বিতীয় তাওয়াফ শুরু করবে। এভাবে সাতবার তাওয়াফ করবে, প্রত্যেক বারেই হাজরে আসঅদের সামনে ডান হাত দিয়ে ইশারা করে বলবে আল্লাহু আকবার (স্বহীহুল বুখারী-১৬০২)। হাজরে আসঅদে এসে সাত তাওয়াফ পূর্ণ হবে। প্রকাশ থাকে যে, সাতবার পূর্ণ হওয়ার পর বিসমিল্লাহে আল্লাহু আকবার আর বলতে হবে না, বেরিয়ে চলে আসতে হবে।
  • ঘ) তাওয়াফ শেষে মাক্বামের ইব্রাহীমের নিকটে জায়গা পেলে ‘অত্তাখাযূ মিম মাক্বামি ইব্রাহীমা মুসাল্লা’ তেলাওয়াত করার পর দু রাকাত সুন্নাত স্বলাত আদায় করতে হবে। উক্ত স্বলাতে ঃ প্রথম রাকাতে সূরা কাফিরূন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস ক্বিরাআত করতে হবে (মুসলিম-২৮৪০ আলহাদীস অ্যাপ, মুসলিম-১২১৮, মাকতবা শামেলা)। যদি মাক্বামে ইব্রাহীমের নিকটে জায়গা না পাওয়া যায়, তাহলে মসজিদুল হারামের যে কোনো স্থানে একই ভাবে দু রাকাত স্বলাত আদায় করতে হবে।

) সায়ী ঃ সায়ী উমরাহ ও হাজ্জে তামাত্তুর রুকন। সায়ী না করলে উমরাহ ও হাজ্জে তামাত্তু কবুল হবে না (স্বহীহুল বুখারী-৩৯৫, ১৫৪৫)।

  • সায়ী যেভাবে করতে হয় ঃ
  • ক) সাফা পর্বতের কাছাকাছি গিয়ে তেলাওয়াত করবে

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ

فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ (158)

  •  ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন াআয়িরিল্লাহ (এই আয়াতাংশটি তেলাওয়াত করলেই হবে)  যে চাইবে সম্পূর্ন আয়াতটিও তেলাওয়াত করতে পারে। উচ্চারণ ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন াআয়িরিল্লাহ ামান হাজ্জাল বাইতা আবিতামারা ফালা জুনাহা আলাইহি আঁই ইয়াত্তাওয়াফা বিহিমা মান তাতাওওয়া খাইরান ফা ইন্নাল্লাহা শাকিরুন আলীম । অর্থ-নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে বাইতুল্লাহর হাজ্জ করবে কিংবা উমরাহ করবে তার কোনো অপরাধ হবে না যে, সে এগুলোর তাওয়াফ করবে। আর যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কল্যাণ করবে, তার জেনে রাখা উচিত েয, নিশ্চয় আল্লাহ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারী, মহাজ্ঞানী। (সূরা বাক্বারা-১৫৮)। সম্পূর্ণ আয়াতটিও পড়া যেতে পারে (মুসলিম-২৮৪০ আল-হাদীস অ্যাপ, মুসলিম-১২১৮, মাকতবা শামেলা)।
  • খ) তারপর বলবে ঃ

أَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللهُ بِهِ

  • উচ্চারণ-আবদাউ বিমা বাদাআল্লাহু বিহী অর্থ- যেখান থেকে আল্লাহ শুরু করেছেন সেখান থেকে আমি শুরু করছি (মুসলিম-২৮৪০ আলহাদীস অ্যাপ, মুসলিম-১২১৮, মাকতবা শামেলা)। আল্লাহ তাআলা সাফা দিয়ে শুরু করেছেন তাই সাফা থেকে সায়ী করতে হবে।

গ) তারপর সাফা পর্বতে আরোহণ করবে, তিনবার আল্লাহু আকবার বলবে এবং কাবার দিকে মুখ করে দু হাত তুলে তিনবার বলবে ঃ

لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ

উচ্চারণ-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহু। লাহুল মুলকু অ লাহুল হামদু অ হুয়া আলা কুল্লি শাইইন ক্বাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু আনজাযা অ’দাহু অ নাসারা আবদাহু অ হাযামাল আহযাবা অহদাহু।

অর্থ-আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। সার্বভৌমত্ব তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য, আর তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, যিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেছেন।

  • তারপর নিজের মত করে যত খুশি দুআ করবে (মুসলিম-২৮৪০ আলহাদীস অ্যাপ, মুসলিম-১২১৮, মাকতবা শামেলা)।
  • ঘ) তারপর সায়ী শুরু করবে। পুরুষরা দুই সবুজ বাতির মধ্যে হাল্কাভাবে দৌড়াবে। নারীরা সাধারণভাবে হাঁটবে।
  • ঙ) সায়ী করতে করতে কুরআন েতলাওয়াত ও অন্যান্য যে কোনো যিকির আযকার করতে থাকবেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, সাফা ও মারওয়ার মাঝের স্থানে নির্দিষ্ট কোনো যিকিরি আযকার বর্ণিত হয়নি।
  • ) মারওয়াতে পৌঁছে এক সায়ী পূর্ণ করবে। তারপর মারওয়াতে দঁাড়িয়ে কাবার দিকে মুখ করে সাফার মত করে দুআ করবে এবং সায়ী আবার শুরু করবে। সাফাতে পৌঁছে দ্বিতীয় সায়ী পূর্ণ করবে। এভাবে সাফা থেকে শুরু করে মারওয়াতে এসে সপ্তম সায়ী পূর্ণ হবে।

) মাথা মুণ্ডন বা চুল কর্তন ঃ

  • সায়ী সম্পূর্ণ করার পর হাজ্জের সময় বেশি থাকলে পুরুষরা ন্যাড়া করবে, কম সময় থাকলে চুল ছোট করবে (স্বহীহুল বুখারী-১৬৯১, মুসলিম-১২২৭)। নারীরা চুলের অগ্রভাগ সামান্য কেটে ফেলবে (সুনান আবী দাঊদ-১৯৮৫)। এটি সুন্নাত । এটি ভুলে েগলেও উমরাহ ও তামাত্তু হাজ্জ সম্পন্ন হয়ে যাবে, ইন শা আল্লাহ। এর জন্য দম দিতে হবে না।
  • াজ্জের আরকান, ফরয বা ওয়াজেব  ও সুন্নাহসমূহ যেভাবে পালন করবেন  
  • [তামাত্তু হাজ্জকারীর জন্য হাজ্জের রুকন ৪টি। রুকনগুলি হল ঃ ক) ইহরাম বাঁধা, খ) আরাফায় অবস্থান,  গ) তাওয়াফ এবং গ) সায়ী । তাওয়াফ ও সায়ী দুটি ফরযকে এক সঙ্গে বর্ণনা করা হয়েছে। ওয়াজেব ৭টি। ওয়াজেবগুলি হল ঃ ক) মীক্বাত থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে ঃ েযহেতু তামাত্তু হাজ্জকারীরা মীক্বাতের মধ্যেই থাকবেন, তাই এই ওয়াজেবটি তাদের জন্য নয়, খ) সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান , গ) মুযদালিফায় রাত্রি যাপন, ঘ) মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা , ঙ) মিনায় রাত্রি যাপন , চ) কাঁকর নিক্ষেপ এবং ছ) বিদায়ী তাওয়াফ এবং বাকিগুলো সুন্নাত]
  • ৮ই যুল হিজ্জাহ করণীয় ঃ এই দিনকে বলা হয় ইয়াওমুত তারবিয়্যাহ।

১) ইহরাম ঃ

  • ৮ তারিখ সূর্যোদয়ের পর হাজ্জের জন্য নূতনভাবে ইহরাম বাঁধতে হবে বা নিয়্যাত করতে হবে। এটি হাজ্জের একটি রুকন । ইহরাম না বাঁধলে বা নিয়্যাত না রলে জ্জ বাতিল হয়ে যাবে।
  • ৮ তারিখ যেখানে সূের্যাদয় হবে-হোটেলে হোক বা মিনাতে সেখান থেকেই পুরুষরা ইহরামের পোশাক পরে ইহরামের নিয়্যাত করবে এবং উচ্চস্বরে বলবে ঃ আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা হাজ্জান। আর মহিলারা নিজের পোশাকেই হাজ্জের নিয়্যাত করে মনে মনে বলবে ঃ আল্লাহুম্মা লাব্বাইক হাজ্জান।  অর্থ- হে আল্লাহ! আমি হাজ্জের  জন্য হাযির।
  •  প্রকাশ থাকে যে, অনেক আগে থেকেই আপনাকে ইহরামের পোশাক পরে রেডি থাকতে বলা হবে। আপনি ৮ তারিখের রাতেই ইহরামের কাপড় পরিধান করবেন কিন্তু যেখানে সূর্যোদয় হবে, সেখান থেকে তালবিয়্যাহ শুরু করবেন। [অর্থাৎ- যদি হোটেলে থাকাকালীন সূর্যোদয় হয়ে যায়, তাহলে হোটেল থেকে, যদি মিনা যেতে যেতে রাস্তায় সূর্যোদয়  হয়, তাহলে রাস্তা থেকে আর যদি মিনাতে পৌঁছে সূর্যোদয়, তাহলে মিনাতে পৌঁছে তালবিয়্যাহ শুরু করবে]।

২) তালবিয়্যাহ পাঠ ঃ তারপর পুরুষরা উচ্চস্বরে আর নারীরা মনে মনে তালবিয়্যাহ বলতে থাকবে।

  • তালবিয়্যাহ হল ঃ লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইক লা শারীকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা, অন নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাকা। অর্থ-আমি হাযির হে আল্লাহ, আমি হাযির, আমি হাযির। আপনার েকানো অংশীদার নেই, আমি হাযির। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা ও সমস্ত নিয়ামত আপনার এবং কর্তৃত্ব আপনারই, আপনার কোনো অংশীদার নেই।

৩) মিনার উদ্দেশ্যে গমন  

  • তালবিয়্যাহ বলতে বলতে যোহরের পূর্বে মিনার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন [মিনা যাওয়া আপনার এখতিয়ারে নেই। ফলে কতৃপক্ষ যখন নিয়ে যাবেন, তখনই আপনি যাবেন। তালবিয়্যাহর নিয়ম অনুযায়ী তালিবিয়্যাহ পড়বেন]। মিনাতে যোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজরের স্বলাত জামাআত সহকারে ক্বসর হিসাবে আদায় করবে। কেননা এখানে পূর্ণ স্বলাত আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম আদায় করেননি। তিনি স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম, আবূ বাকর এবং উমার রাযিয়াল্লাহু আহনহুম মিনাতে দু রাকাত করে স্বলাত আদায় করেছেন। উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুও তাঁর খিলাফাতের প্রথম ভাগে দু রাকাত করে স্বলাত আদায় করেছেন (স্বহীহুল বুখারী-১৬৫৫)। প্রকাশ থাকে যে, মিনাতে প্রতিটি স্বলাতকে নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করাই সুন্নাত , এক সঙ্গে জমা করা নয়।
  • ৯ই যুল হিজ্জা করণীয় ঃ এটি হল ইয়াওমুল আরাফা বা আরাফার দিন।  যোহর থেকে আসর পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থানই হল মূল হাজ্জ।

১) মিনা থেকে আরাফার উদ্দেশ্যে রওনা

  • নিয়ম হল ফজরের স্বলাত আদায় করে সূর্যোদয় হওয়ার পর আরাফার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া। কিন্তু এখানেও আপনার কোনো এখতিয়ার নেই। কতৃপক্ষ যখন নিয়ে যাবেন, তখনই আপনি বেরিয়ে পড়বেন। হাজ্জের কোনো অসুবিধা  হবে না কারণ এগুলো হাজ্জের রুকন বা ফরয নয়।
  • সূর্যোদয়ের পর তালবিয়্যাহ বলতে বলতে মিনা থেকে আরাফার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। চলতে চলতে আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ কুরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি যিকির আযকারও করা যাবে। মনে রাখতে হবে যে, সূর্যোদয়ের পূর্বে বা রাতেও মিনা থেকে আরাফা নিয়ে গেলে হাজ্জের কোনো ক্ষতি হবে না।

) আরাফায় অবস্থান

  • যোহর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যে কোনো এক সময় আরাফায় অবস্থান করা হাজ্জের একটি রুকন। এই সময়ের মধ্যে আরাফার ময়দানে অবস্থান না করলে হাজ্জ বাতিল হয়ে যাবে। ৯ই যুল হিজ্জা আরাফার ময়দানে যোহরের পূর্বে পৌঁছতে হবে। যানজটের কারণে দেরী হলেও অসুবিধা নেই। যোহর ও আসরের স্বলাত এক আযান ও দুই ইক্বামাতে ক্বসর করে আদায় করতে হবে।

) সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান   

  • এটি হাজ্জের একটি ফরয বা ওয়াজিব। এটি পালন না রলে দম দিতে হবে। প্রকাশ থাকে েয, যদি কেউ সূর্যাস্তের পূর্বে আরাফার ময়দানের বাইরে চলে যায়, তাহলে তাকে দম দিতে হবে।

) সূর্যােস্তর পর মাগরিবের স্বলাত আদায় না করে আরাফার ময়দান ছাড়তে হবে।

) সূর্যাস্তের পর আরাফার ময়দান থেকে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে (মুসলিম-২৮৪০ আলহাদীস অ্যাপ, মুসলিম-১২১৮, মাকতবা শামেলা)।

৬) আরাফার দিনে সর্বোত্তম দুআ ঃ

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণ- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অ হুয়া আলা কুল্লি শাইইন ক্বাদীর। তিরমিযী-৩৫৯৫ হাসান-আলবানী।

অর্থ-আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। সার্বভৌমত্ব ও প্রশংসা তাঁরই জন্য এবং তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।

  • ১০ই যুলহিজ্জা করণীয় ঃ ১০ই যুলহিজ্জা ইয়াওমুন নাহর বা কুরবানীর দিন

) মুযদালিফাতে আগমন ও স্বলাত

  • ১০ই যুল হিজ্জার রাতে মুযদালিফাতে পৌঁছে প্রথম কাজ হল মাগরিব ও এশার স্বলাত ক্বসর হিসাবে সম্পাদন করা। অতঃপর প্রয়োজন মত কাঁকর সংগ্রহ করা।

২) মুযদালিফায় রাত্রি যাপন

  • মুযদালিফার উমুক্ত ময়দানে ১০ই যুল হিজ্জার রাত অতিবাহিত করতে হবে। এটি হাজ্জের একটি ফরয বা ওয়াজিব।এটি পালন না রলে দম দিতে হবে। যদি কেউ মুযদালিফায় রাত্রি যাপন না করে, তাহলে তাকে দম দিতে হবে।

) ফজরের স্বলাত ও মিনার উদ্দেশ্য গমন

  • মুযদালিফায় ১০ই যুল হিজ্জা ফজরের স্বলাত আদায় করতে হবে। অতঃপর সূর্যোদয়ের পূর্বে মুযদালিফা পরিত্যাগ করে মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে হবে (মুসলিম-২৮৪০ আলহাদীস অ্যাপ, মুসলিম-১২১৮, মাকতবা শামেলা)। প্রকাশ থাকে যে, কোনো কারণে সূর্যোদয়ের পরে মুযদালিফা থেকে বেরোলেও অসুবিধা নেই।

) কাঁকর নিক্ষেপ

  • এটি হাজ্জের ফরয বা ওয়াজেব। কাঁকর নিক্ষেপ না করলে, দম দিতে হবে।
  • ১০ তারিখ সূর্যোদয়ের পর প্রথমে জামরায়ে আক্ববা বা বড় শয়তানকে ৭টি কাঁকর মারতে হবে। সেদিন কেবলমাত্র জামরায়ে আক্বাবাকেই কাঁকর মারতে হবে। অন্যান্য জামরাকে প্রথম দিন কাঁকর মারতে হবে না।
  • তাকবীর ঃ একটি একটি করে কাঁকর মারতে হবে এবং কাঁকর মারার সময় আল্লাহু আকবার বলতে হবে (মুসলিম-২৮৪০ আলহাদীস অ্যাপ, মুসলিম-১২১৮, মাকতবা শামেলা)।

) তালবিয়্যাহ বন্ধ ও (ঈদের) তাকবীর শুরু

  • ১০ তারিখ সূর্যোদয়ের পর জামরায়ে আক্বাবাতে পৌঁছনোর পর তালবিয়্যাহ বন্ধ করতে হবে (স্বহীহুল বুখারী-১৬৭০)। ইবনু খুযাইমার বর্ণনায় রয়েছে যে, জামরায়ে আক্বাবাতে শেষ পাথর মারার পর তালবিয়্যাহ বন্ধ করতে হবে (২৮৮৭)। কুরবানী দিন এবং তাশরীকের দিনগুলিতে তাকবীর পড়তে হবে হবে। এই সময়ে উমার ও আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুমা এবং মাইমুনাহ রাযিয়াল্লাহু আনহা স্বলাতের পরে ও অন্যান্য অবস্থায় তাকবীর পড়তেন, (স্বহীহুল বুখারী ঃ বাবুত তাকবীরে আইয়্যামা মিনা,,,, তালাকান, হাদীস নং-৯৭০ এর পূর্বে)।
  •  ঈদের তাকবীর হল

اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ “

  • উচ্চারণ-আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, অ লিল্লাহিল হামদ । অর্থ-আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য (ইবনু আবী শাইবা-৫৬৫১, স্বহীহ- ইরওয়ালুল গালীল-৬৫৪, আলবানী)।

) কুরবানী ঃ

  • ১০ তারিখ জামরায়ে আক্বাবাতে কাঁকর মারার পর কুরবানী করতে হবে। সুযোগ থাকলে নিজে করবেন, নিজে খাবেন এবং গরীব মিসকীনকে দেবেন। সরকারীভাবে টাকা জমা করলে আপনাকে কোনো চাপ নিতে হবে না।

)  মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা

  • এটি একটি হাজ্জের ফরয বা ওয়াজেব। এটি পালন না করলে দম দিতে হবে। ১০ তারিখ কুরবানী করার পর পুরুষদেরকে মাথা মুণ্ডন করতে হবে অথবা চুল ছোট করতে হবে। নারীদেরকে চুলের অগ্রভাগ একটু কেটে ফেলতে হবে।
  • বিঃদ্রঃ প্রথমে কুরবানী করা , তারপর মাথা মুণ্ডন করা ভালো। তবে আগে পিছে হলে অসুবিধা নেই।

) প্রাথমিকভাবে হালাল

  • এরপর আপনি প্রাথমিকভাবে হালাল হয়ে যাবেন। স্ত্রীর ব্যতীত সব কিছুই আপনার জন্য হালাল হয়ে যাবে অর্থাৎ ইহরাম অবস্থায় যে সমস্ত কাজগুলি আপনার জন্য হারাম ছিল সেগুলো হালাল হয়ে যাবে। যেমন আপনি ইহরাম পোশাক খুলতে পারবেন এবং সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন। কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করত পারবেন না।

) তাওয়াফুল ইফাযাহ বা যিয়ারাহ (তাওয়াফ ও সায়ী)

  • তামাত্তু হাজ্জ পালনকারীদের জন্য এই তাওয়াফটি (তাওয়াফ ও সায়ী)  হাজ্জের  রুকন (মুসলিম-১২১১)। এ দুটি রুকন পালন না রলে হাজ্জ বাতিল হয়ে যাবে। হাদীসে তাওয়াফ বলতে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সায়ীকে বোঝানো হয়েছে। তাওয়াফে ইফাযাহ বা যিয়ারাতে প্রথমে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করতে হবে যেভাবে উমরাহর সময় তাওয়াফ করা হয়। তারপর সায়ী করতে হবে যেভাবে উমরাহর সময় সায়ী করা হয়। ১০ তারিখেই তাওয়াফে ইফাযাহ বা যিয়ারাহ করা উত্তম। তাওয়াফ শেষ করে মিনাতে ফিরে আসতে হবে এবং মিনাতে রাত্রি যাপন করতে হবে। কেননা এটি হােজ্জর একটি ওয়াজেব।
  •  প্রকাশ থাকে যে, এই তাওয়াফ করতে হবে সাধারণ পোশাকে, ইহরামের জন্য নির্ধারিত পোশাক পরে নয়

১০) পূর্ণভাবে হালাল  

  • তাওয়াফে ইফাযার বা যিয়ারাহ অর্থাৎ তাওয়াফ ও সায়ীর পর হাজ্জ পালনকারী পূর্ণভাবে হালাল হয়ে যাবেন।
  • বিঃ দ্রঃ ১০ তারিখ সম্ভব না হলে ১১-১৩ তারিখের মধ্যে যে কোনো দিন তাওয়াফে যিয়ারাহ করা যেতে পারে।  তবে মনে রাখতে হবে যে, তাওয়াফে যিয়ারাহ না করা পর্যন্ত আপনি পূর্ণভাবে হালাল  হতে পারবেন না। মহিলারা যদি ঋতুবতী বা সন্তান প্রসব করেন , তাহলে পবিত্র হওয়ার তাওয়াফুল যিয়ারাহ করবেন।
  • ১১-১৩ই যুল হিজ্জা করণীয় ঃ এই দিনগুলিকে আইয়্যামে তাশরীক্ব বলে

) মিনায় রাত্রি যাপন

  • এটি হাজ্জের একটি ফরয বা ওয়াজেব। এটি পালন না রলে দম দিতে হবে। ১১ ও ১২ তারিখের রাত্রি অবশ্যই মিনাতে যাপন করতে হবে। ১০-১২ তারিখের রাত মিনাতে যাপন না করলে, দম দিতে হবে।  যারা তাড়াতাড়ি ফিরতে চান, তারা ১২ তারিখ তিনটি জামরাকে কাঁকর মেরে সূর্যাস্তের পূর্বেই মিনা পরিত্যাগ করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَ اذۡكُرُوا اللّٰهَ فِیۡۤ اَیَّامٍ مَّعۡدُوۡدٰتٍ ؕ فَمَنۡ تَعَجَّلَ فِیۡ یَوۡمَیۡنِ فَلَاۤ اِثۡمَ عَلَیۡهِ ۚ وَ مَنۡ تَاَخَّرَ فَلَاۤ اِثۡمَ عَلَیۡهِ ۙ لِمَنِ اتَّقٰی ؕ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ وَ اعۡلَمُوۡۤا اَنَّكُمۡ اِلَیۡهِ تُحۡشَرُوۡنَ ﴿۲۰۳﴾

  • অর্থ-আল্লাহকে স্মরণ করো নির্দিষ্ট দিনসমূহে (১১-১৩ যুল হিজ্জাহ)। অতঃপর যে তাড়াহুড়া করে দু’দিনে চলে আসবে। তার  কোনো পাপ নেই। আর যে বিলম্ব করবে, তারও  কোনো অপরাধ নেই। (এ বিধান) তার জন্য, যে তাকওয়া অবলম্বন করেছে। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং জেনে রাখো, নিশ্চয় তোমাদেরকে তাঁরই কাছে সমবেত করা হবে। সূরা বাক্বারাহ-২০৩
  • ১২ তারিখ মিনা থেকে সূর্যাস্তের পূর্বে বেরোতে না পারলে ১৩ তারিখের রাতও মিনাতেই থাকতে হবে।

) কাঁকর নিক্ষেপ ঃ

  • এটি হাজ্জের একটি ফরয বা ওয়াজেব। ফরয বা ওয়াজেব পরিত্যাগ করলে দম দিতে হবে। ১০ তারিখ কেবল বড় জামরাকে কাঁকর মারতে হবে। মিনাতে থাকাকালীন বাকী দিনগুলিতে তিনটি জামরাকেই ৭টি করে কাঁকর মারবেন। কাঁকর মারার সময় প্রতিটি কাঁকরের জন্য আল্লাহু আকবার বলবেন (মুসলিম-২৮৪০ আলহাদীস অ্যাপ, মুসলিম-১২১৮, মাকতবা শামেলা)।

৩) কাঁকর নিক্ষেপের সময় দুআ

  • ছোট জামরা ও মধ্যম জামরাকে কাঁকর মারার পর কেবলামুখী হয়ে দুআ করা সুন্নাত। অবশ্য খেয়াল রাখতে হবে যে, যেন কোনো প্রকার ভীড় বা ধাক্কাধাক্কি না হয়।

) আয়্যামে তাশরীক্ব [১১-১৩ই যুল হিজ্জাহ]

  • অর্থাৎ ১১-১৩ পর্যন্ত ঈদের তাকবীর বলতে থাকবে (স্বহীহুল বুখারী ঃ বাবুত তাকবীরে আইয়্যামা মিনা,,,, তালীকান, হাদীস নং-৯৭০ এর পূর্বে)। ঈদের তাকবীর ঃ আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার অ লিল্লাহিল হামদ (ইবনু আবী শাইবা-৫৬৫১, সানাদ স্বহীহ-ইরওয়াউল গালীল-৬৫৪)।
  • ১১ ও ১২  তারিখ তিনটি জামরাকেই ৭টি করে পাথর মারতে হবে যাওয়ালের পর থেকে সূর্য ডোবার পূর্ব পর্যন্ত। ২দিনে েমাট ৪২ টি কাঁকর মারতে হবে।
  • তারিখ সূর্যাস্তের পূর্বে মিনা থেকে বেরোতে না পারলে ১৩ তারিখও মিনায় রাত্রি যাপন করতে হবে এবং ১৩ তারিখ যাওয়াল পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত ৩টি জামরাকেই ৭টি করে কাঁকর মারতে হবে। মোট ২১টি কাঁকর মারতে হবে।
  • বাড়ি ফেরার পূর্বে হাজ্জের শেষ ওয়াজেব সম্পাদন

) তাওয়াফুল বিদা বা বিদায়ী তাওয়াফ  ঃ

  • হাজ্জের এটি সর্বশেষ ফরয বা ওয়াজেব। এটি পালন না রলে দম দিতে হবে। মক্কা পরিত্যাগ করার ঠিক পূর্বে সময় সুযোগ বুঝে বিদায়ী তাওয়াফ করতে হবে। নাবী স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম বলেন ঃ তোমরা বাইতুল্লাহ বা আল্লাহর ঘরের সঙ্গে শেষ দেখা না করে তোমাদের কেউ যেন মক্কা ত্যাগ না করে। মহিলারা হায়েয বা নিফাসের কারণে বিদায়ী তাওয়াফ করতে না পারলে কোনো অসুবিধা নেই (স্বহীহ বুখারী-১৭৫৫)।
  • বিদায়ী তাওয়াফ মক্কা পরিত্যাগ করার বড়জোর ২৪ ঘন্টা পূর্বে করবেন, আরো পরে করতে পারলে ভালো। কখনো ২-৪ দিন বা আরো অনেক দিন পূর্বে করবেন না।
  • প্রকাশ থাকে যে, তাওয়াফ করার সময়, সায়ী করার সময়, সাফা ও মারওয়াতে হাত তুলে দুআ করার সময় এবং খাস করে আরাফার ময়দানে থাকার সময় আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুল্লিাহ ছাড়াও যে কোনো দুআ নিজের মত করে করতে পারেন।
  • [আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামের হাজ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন-স্বহীহ মুসলিম-২৮৪০ আলহাদীস অ্যাপ, মুসলিম-১২১৮, মাকতবা শামেলা। তাছাড়া স্বহীহ মুসলিম ও বুখারীতে এবং অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে স্বহীহ হাদীস রয়েছে। সবগুলোর সারনির্যাস উপরে বর্ণনা করা হয়েছে।]
  • ঋতুবতী ও সন্তানপ্রসবা মহিলাদেরে বিধান ঃ

ক) হায়েয হোক আর সন্তান প্রসব েহাক সর্বাবস্থায় মহিলারা গোসল করে ইহরাম বাঁধতে পারবে। হায়েয় বা নিফাসের কারণে ইহরাম বাঁধা িনষিদ্ধ নয়।

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، فِي حَدِيثِ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ حِينَ نُفِسَتْ بِذِي الْحُلَيْفَةِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَمَرَ أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، «فَأَمَرَهَا أَنْ تَغْتَسِلَ وَتُهِلَّ»

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আসমা বিনত উমায়স রাযিয়াল্লাহু আনহা যুল-হুলায়ফা নামক স্থানে সন্তান প্রসব করলে রসুলুল্লাহ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম আবূ বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তদনূযায়ী তাকে গোসল করে ইহরাম বাঁধতে বললেন।  মুসলিম-১২১০

খ) ইহরাম অবস্থায় তাওয়াফ ও সায়ী বাদ দিয়ে হাজ্জের সমস্ত আরকান, ওয়াজেব ও সুন্নাহ পালন করবে।

فَقَدِمْتُ مَكَّةَ وَأَنَا حَائِضٌ، وَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ، وَلاَ بَيْنَ الصَّفَا وَالمَرْوَةِ، فَشَكَوْتُ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «انْقُضِي رَأْسَكِ وَامْتَشِطِي وَأَهِلِّي بِالحَجِّ، وَدَعِي العُمْرَةَ

১) আয়িশাহ রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন এরপর আমি মক্কা্য় ঋতুমতী অবস্থায় পৌঁছলাম। কাজেই বাতুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফামারওয়ার সা‘য়ী কোনোটিই আদায় করতে সমর্থ হলাম না। রসূলুল্লাহ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামকে আমার অসুবিধার কথা জানালে তিনি বললেনঃ মাথার চুল খুলে দাও এবং মাথায় চিরুনি করে নাও এবং হাজ্জের ইহরাম বহাল রাখো এবং ‘উমরাহ ছেড়ে দাও। বুখারী-১৫৫৬।

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، قَالَتْ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا نَذْكُرُ إِلَّا الْحَجَّ، حَتَّى جِئْنَا سَرِفَ فَطَمِثْتُ، فَدَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَبْكِي، فَقَالَ: «مَا يُبْكِيكِ؟» فَقُلْتُ: وَاللهِ، لَوَدِدْتُ أَنِّي لَمْ أَكُنْ خَرَجْتُ الْعَامَ، قَالَ: «مَا لَكِ؟ لَعَلَّكِ نَفِسْتِ؟» قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: «هَذَا شَيْءٌ كَتَبَهُ اللهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ، افْعَلِي مَا يَفْعَلُ الْحَاجُّ غَيْرَ أَنْ لَا تَطُوفِي بِالْبَيْتِ حَتَّى تَطْهُرِي

২) আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা রসূলুল্লাহ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর সঙ্গে হাজ্জের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলাম। আমরা সারিফ নামক স্থানে পৌঁছলে আমি ঋতুবতী হই। এ সময় নাবী স্বল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এসে আমাকে কাঁদতে দেখলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললামঃ আল্লাহর শপথ! এ বছর হাজ্জ না করাই আমার জন্য ভালো ছিল। তিনি বললেনঃ সম্ভবত তুমি ঋতুবতী হয়েছ। আমি বললাম, ’হ্যাঁ’। তিনি বললেনঃ এ তো আদম কন্যাদের জন্য আল্লাহ্ নির্ধারিত করেছেন। তুমি পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য হাজীদের মত সমস্ত কাজ করে যাও, কেবল কাবার তাওয়াফ করবে না। মুসলিম-১২১১।

গ) তামাত্তু হাজ্জ পালনকারিনী পবিত্র হওয়ার পর উমরাহ করবে এবং তাওয়াফুল যিয়ারাহ বা ইফাযাহ করবে।  যদি তাওয়াফুল ইফাযার পর হাজ্জ পালনকারিনী ঋতুবতী হয় বা সন্তান প্রসব করে, তাওয়াফুল বিদা বা বিদায়ী তাওয়াফ করার প্রয়োজন নেই।

أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَخْبَرَتْهُمَا أَنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَيٍّ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حَاضَتْ فِي حَجَّةِ الوَدَاعِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَحَابِسَتُنَا هِيَ» فَقُلْتُ: إِنَّهَا قَدْ أَفَاضَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَطَافَتْ بِالْبَيْتِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَلْتَنْفِرْ»

রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামের সহধর্মিনী আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামের সহধর্মিনী হুয়াই এর কন্যা সাফিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহা বিদায় হাজ্জের সময় ঋতুবতী হয়ে পড়েন। তখন রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম বললেন, সে কি আমাদের (মদিনার পথে প্রত্যাবর্তনে) বাঁধ সাধল? তখন আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ! তিনি তো তাওয়াফে যিয়ারাহ্ আদায় করে নিয়েছেন এবং বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করে নিয়েছেন। তখন রসূলুল্লাহ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম বললেন, তাহলে সেও রওয়ানা হোক (বুুখারী-৪৪০১)।  

  • হাদীস থেকে বোঝা গেল ঃ ক) তাওয়াফুল বিদা বা বিদায়ী তাওয়াফ না হলে হায়েয ও নিফাসওয়ালী মহিলাদের হাজ্জ হয়ে যাবে। খ) তাওয়াফে ইফাযাহ না হলে আল্লাহর রসূল রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামের সহধর্মিনী হুয়াই এর কন্যা সাফিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহাকে তাওয়াফ ইফাযাহ করার জন্য থাকতে হত।

ঘ) যদি কোনো মহিলা হাজ্জ পালনকারিনী হায়েযকে বিলম্বিত করার জন্য মেডিসিন ব্যবহার করে, তাতে কোনো অসুবিধা নেই।

  • বিঃ দ্রঃ
  • ১) যদি কোনো উমরাহ বা হাজ্জপালনকারী উমরাহ ও হােজ্জর কোনো একটি রুকন পালন করতে ভুলে যান, তাহলে তার হাজ্জ ও উমরাহ হবে না।
  • ২ ) যদি তিনি এক বা একাধিক ফরয বা ওয়ােজব পালন করতে ভুলে যান, তাহলে একটি দম দিলে তাঁর হাজ্জ ও উমরাহ সম্পন্ন হয়ে যাবে, ইন শা আল্লাহ।  দম সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন-

مَنْ نَسِيَ مِنْ نُسُكِهِ شَيْئًا أَوْ تَرَكَهُ فَلْيُهْرِقْ دَمًا

যে ব্যক্তি তার হাজ্জের পালনীয় কোনো িকছু ভুলে যায় বা বাদ দিয়ে দেয়, তাকে অবশ্যই একটি দম দিতে হবে। মুআত্তা ইমাম মালিক-৮৯২৫, স্বহীহুল ইসনাদ। হাদীসটি মারফূর হুকুমে রয়েছে।

  • ৩) দম হল ঃ ছাগল, দুম্বা বা ভেড়া গোরু, উঁট েয কোনো একটি পশু যবেহ করে সেখানকার গরীবদের মধ্যে বিতরণ করে দিতে হবে।
  • ৪) যদি তিনি উমরাহ ও হাজ্জের ফরয এবং ওয়াজেবসমূহ সম্পূর্ণ করেন কিন্তু অন্যান্য সুন্নাতগুলোর মধ্যে কিছু কিছু েছড়ে দেন বা ভুলে যান তাতে কোনো অসুবিধা নেই, ইন শা আল্লাহ তাঁর হাজ্জ ও উমরাহ সম্পন্ন হয়ে যাবে।

আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু ্অালাইহি অ সাল্লাম বলেন-

لاَ تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلَّا إِلَى ثَلاَثَةِ مَسَاجِدَ: المَسْجِدِ الحَرَامِ، وَمَسْجِدِ الرَّسُولِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَسْجِدِ الأَقْصَى

মাসজিদুল হারাম, মাসজিদুর রসূল এবং মাসজিদুল আকসা (বায়তুল মাকদিস) তিনটি মসজিদ ব্তীত অন্য  েকানো মসজিদের (যিয়ারতের) উদ্দেশে সফরের জন্য প্রস্তুত হওয়া যাবে না । বুখারী-১১৮৯।

صَلاَةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيمَا سِوَاهُ، إِلَّا المَسْجِدَ الحَرَامَ

মাসজিদুল হারাম ব্যতীত আমার এ মসজিদে স্বলাত আদায় করা অন্যান্য মসজিদে এক হাজার স্বলাতের চাইতে উত্তম । বুখারী-১১৯০।

রিয়াযুল জান্নাত ঃ আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম বলেন-

مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الجَنَّةِ، وَمِنْبَرِي عَلَى حَوْضِي

আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান আর আমার মিম্বর অবস্থিত (রয়েছে) আমার হাউয (কাওসার) এর উপর ( বুখারী-১১৯৬)।

  • নাবী স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামের কবর যিয়ারাতের আদব ঃ

ক) শারয়ী আদব ঃ নাবীজির স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম কবর জিয়ারত করে এবং তাঁকে সালাম জানিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করাই এর উদ্দেশ্য।

খ) বিদআতী আদব ঃ এমন কোনো কিছু আচরণ করা যা শির্কের অন্তর্ভুক্ত করে দেয় বা শির্কের পথকে প্রশস্ত করে যেমন নাবীর স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম কাছে প্রার্থনা করা, তাঁর কাছে প্রয়োজন মেটানোর জন্য চাওয়া বা তাঁর মাধ্যমে সুপারিশ প্রার্থনা করা অথবা কবরের দিকে মুখ করে সেখানে প্রার্থনা করা। এ সমস্ত আমল সালাফগণ অর্থাৎ পূর্ববর্তী সৎকর্মশীলগণ করতেন না। বিধায় উক্ত আমলসমূহ নিষিদ্ধ। তথা বিদআতী আমল।

আল্লামা স্বলেহ আল-উসাইমিন নাবীজির কবর যিয়ারত এবং তার সামনে দাঁড়ানোর আদব সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং পাঠকের উপকারের জন্য আমি তাঁর ফতোয়াটির বাংলা অনুবাদ সম্পূর্ণভাবে উদ্ধৃত করছি। তিনি রাহেমাহুল্লা বলেছেন ঃ নাবীর কবর যিয়ারত করা একটি মুস্তাহাব কাজ, এবং এটি সেইসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম যা নাবী (তাঁর ও তাঁর পরিবারের প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)-এর বাণীর অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন ঃ কবর যিয়ারাত করলে আখেরাত স্মরণ হয় (মুসলিম-৯৭৬)। তবে,  নাবীর কবর যিয়ারত করার সময় অবশ্যই এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, এটি একটি ইবাদত যা আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত, আল্লাহর রসূলের উদ্দেশ্যে নয় এবং আল্লাহর রসূলের নিজের উপকার বা ক্ষতি করার কোনো ক্ষমতা নেই, তেমনি তিনি অন্যের উপকার বা ক্ষতি করারও ক্ষমতা রাখেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন ঃ বলুন-আল্লাহ যা চান তা ছাড়া নিজের কোনো উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা আমার নেই। যদি আমি অদৃশ্যের জ্ঞান রাখতাম, তবে আমি অনেক কল্যাণ লাভ করতাম এবং কোনো ক্ষতি আমাকে স্পর্শ করত না। আমি তো কেবল বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা (আলআরাফ-১৮৮) ।” এটাই নাবী তিনি স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামের প্রকৃত অবস্থা: আল্লাহ যা চান তা ছাড়া নিজের কোনো উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা তাঁর নেই। সম্পূর্ণ বিষয়টি সর্বশক্তিমান আল্লাহর হাতে; নাবী স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম এবং অন্যদের জন্য উপকার ও ক্ষতি উভয়ই সম্পূর্ণরূপে সর্বশক্তিমান আল্লাহর হাতে। তিনি স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম অদৃশ্য বিষয় জানেন না, এবং যদি জানতেন, তবে তিনি অনেক কল্যাণ লাভ করতেন। তিনি স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম অন্যদের মতোই ক্ষতির সম্মুখীন হন, এবং এ কারণেই তিনি বলেছেন: কোনো ক্ষতি আমাকে স্পর্শ করেনি । কিন্তু নবীজি স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম মুমিনদের জন্য একজন স্পষ্ট সতর্ককারী হওয়ার মাধ্যমে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র। আল্লাহ তাআলা তাঁকে এই কথা বলেছেন এবং তাঁকে ঘোষণা করতে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তিনি কারো ক্ষতি করার বা কাউকে হেদায়েত দেওয়ার কোনো ক্ষমতা রাখেন না, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: বলুন-নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ক্ষতি করার বা তোমাদের পথ দেখানোর কোনো ক্ষমতা রাখি না-(সূরা জিন-২১) ” এবং তিনি তাঁকে আরও একটি বিষয় ঘোষণা করতে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: বলুন -আমি তোমাদেরকে বলি না যে আমার কাছে আল্লাহর ধনভান্ডার রয়েছে, আর আমি অদৃশ্য বিষয়ও জানি না, এবং আমি তোমাদেরকে এও বলি না যে আমি একজন ফেরেশতা। আমি শুধু আমার প্রতি যা ওহী করা হয়, তারই অনুসরণ করি (সূরা আলআনআম-৫০)।” অতএব, যে কেউ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামের কবর যিয়ারত করবে, তার জন্য এটি বিশ্বাস করা অপরিহার্য, অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামকে যে গুণাবলিতে ভূষিত করেছেন, তাতেই বিশ্বাস করা এবং অতিরঞ্জনের মাধ্যমে তা অতিক্রম না করা, কিংবা অবহেলার মাধ্যমে তাতে কোনো ত্রুটি না করা। আল্লাহর রাসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামের জন্য তা-ই রয়েছে যা আল্লাহ তাআলা তাঁকে দান করেছেন, এবং মহান প্রতিপালকের জন্য তা-ই রয়েছে যা তিনি নিজের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন, তিনি মহিমান্বিত ও সর্বোচ্চ। অতঃপর, যখন সে সালাম পেশ করবে, তখন যেন তা দীর্ঘ না করে, কারণ তা দীর্ঘ করা পূর্ববর্তী সৎকর্মশীলদের নির্দেশনার পরিপন্থী। সে নাবীজির কবর স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামের দিকে মুখ করে দাঁড়াবে এবং বলবে:

السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته، اللهم صل وسلم عليه واجزه عنا خيرا ما جزيت نبياً عن أمته

উচ্চারণ  ঃ  আসসালামু আলাইকা ইয়া আইহান নাবীয়ু ও অ রহমাতুল্লাহে  অ বারাকাতুহু, আল্লাহুম্মা স্বাল্লি অ সাল্লিম আলাইহি অ আজিযহু আন্না খাইরান মা জাযায়তা নাবীয়ান আন উম্মাতিহি।

অর্থ ঃ হে  নাবী আপনার উপর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ, তাঁর প্রতি আপনার রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন এবং আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে এমন সর্বোত্তম প্রতিদান দিন, যা আপনি কোনো নাবীকে তাঁর উম্মতের জন্য দেননি।

অতঃপর আবূ বাকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কবরের সামনে গিয়ে বলতে হবে-

السلام عليك يا أبا بكر، السلام عليك يا خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم في أمته، رضي الله عنك وجزاك عن أمة محمد خيرا

উচ্চারণ  ঃ আসসালামু আলাইকা ইয়া আবা বাকর আসসালামু আলাইকা ইয়া খালীখাতে রসূলিল্লাহে স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম ফী উম্মাতিহি, রাযিয়াল্লাহু আনকা অ জাযাকা আন উম্মাতে মুহাম্মাদিন খাইরা।

অর্থ ঃ আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, হে আবু বকর! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, হে আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামের উম্মতের মধ্যে তাঁর খলিফা! আল্লাহ আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং মুহাম্মাদের উম্মতের পক্ষ থেকে আল্লাহ তাআলা আপনাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

অতঃপর উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুর কবরের সামনে গিয়ে বলতে হবে-

 السلام عليك يا عمر، السلام عليك يا أمير المؤمنين، رضي الله عنك وجزاك عن أمة محمد خيرا 

উচ্চারণ  ঃ আসসালামু আলাইকা ইয়া উমার, আসসালামু আলাইকা ইয়া আমীরাল মুমিনীন রাযিয়াল্লাহু আনকা অ জাযাকা আন উম্মাতে মুহাম্মাদিন খাইরা।

অর্থ ঃ হে উমর! আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং মুহাম্মদ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামের উম্মতের পক্ষ থেকে আল্লাহ তাআলা আপনাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

ঘন ঘন কবর যিয়ারত করা থেকেও বিরত থাকা উচিত যেমন অনেকে অভ্যাসবশতঃ প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর বা প্রত্যেক ফজরের নামাজের পর করে থাকে। কারণ আমরা জানি, এবং আল্লাহও নিশ্চিতভাবে জানেন, যে আমরা নাবীজি স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামকে সাহাবীদের চেয়ে বেশি ভালোবাসি না, আর আমরা তাঁর প্রতি সাহাবীদের চেয়ে বেশি সম্মানও প্রদর্শন করি না। আর যদি তাঁরা তা না করেন, তবে তাঁরাই আমাদের আদর্শ ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যাঁরা প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী এবং যাঁরা সততার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন—আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট (সূরা তাওবা-১০০)।” সুতরাং, মুহাজির ও আনসারদের পরে আগতদের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি কেবল তাদেরকেই দেওয়া হবে, যাঁরা সততার সাথে তাদের অনুসরণ করেছেন। অর্থাৎ, তাঁরা কোনো কমতি বা বাড়াবাড়ি না করে তাঁর পথ অনুসরণ করেছিলেন। আর আপনি এমন লোকদের দেখে বিস্মিত হবেন, যারা নাবীর কবরের কাছে সাহাবীদের চেয়েও বেশি তাঁকে সম্মান করে অথচ তারা নিজেদের কর্মে তাঁর বিরোধিতা করে। আপনি দেখবেন যে, তারা আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম কর্তৃক তাঁর রবের ইবাদতের জন্য নির্ধারিত অনেক সুন্নাহ পদ্ধতিকে অবহেলা করছে। বস্তুত, আপনি দেখবেন তারা তাদের কর্তব্য অবহেলা করছে এবং হয়তো নিষিদ্ধ কাজেও লিপ্ত হচ্ছে। তাদের কেউ কেউ দাড়ি কামিয়ে ফেলবে, কেউ মদ পান করবে, এবং কেউ কেউ ইশারা-ইঙ্গিত, নিষিদ্ধ দৃষ্টি বা অনুরূপ কাজের মাধ্যমে নারীদের পিছনে ছুটবে। এটা অত্যন্ত আশ্চর্যজনক যে, এই লোকেরা উভয় দিক থেকেই সালাফ বা নেককার পূর্বসূরীদের পথ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। এর মধ্যে নাবী করীম স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে বাড়াবাড়ি করা এবং তাঁর সুন্নাহ ও নির্দেশনাকে উপেক্ষা করা—উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। নাবী করীম স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা তাঁর কবরের পাশে অননুমোদিতভাবে দাঁড়িয়ে থাকার মাধ্যমে অর্জিত হয় না, বরং তাঁকে ভালোবাসা এবং বাহ্যিকভাবে ও মানসিকভাবে তাঁকে অনুসরণ করার মাধ্যমে অর্জিত হয়, এবং এই বিশ্বাস রাখার মাধ্যমে অর্জিত হয় যে, তাঁর সুন্নাহ সমস্ত রীতির মধ্যে সর্বোত্তম এবং তাঁর নির্দেশনা সবচেয়ে নিখুঁত।

আর আমরা যেন তিনি যা নির্ধারণ করেছেন, তা থেকে কমও না করি এবং বাড়াবাড়িও না করি—এভাবেই আমরা রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামকে সম্মান করি। প্রকৃতপক্ষে, আল্লাহ তাআলা এমন এক সম্প্রদায়কে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, যারা রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামকে অনুসরণ করার মাধ্যমে আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি করত। তিনি বলেছিলেন: “বলুন, [হে মুহাম্মাদ], ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (আলে ইমরান-৩১)।'” আমার মুসলিম ভাইদের প্রতি আমার উপদেশ হলো, আল্লাহ তাঁর রসূলের কাছে যা অবতীর্ণ করেছেন, তার সীমা অতিক্রম না করা এবং আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামের প্রতি এমন অতিরিক্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে বাড়াবাড়ি না করা, যার ফলে তারা তাঁর সুন্নাহ ও হিদায়েতের বরকত থেকে বঞ্চিত হয়। কেউ কেউ হয়তো অবাক হবেন যখন দেখবেন কিছু লোক নাবীর কবরের সামনে দাঁড়িয়ে, সেদিকে মুখ করে, মাথা নিচু করে, চোখ বন্ধ করে দোয়া করছে…। তিনি প্রার্থনার ভঙ্গিতে নিজের হাত দুটি বুকের কাছে তোলেন, কিন্তু সর্বশক্তিমান আল্লাহ সামনে দাঁড়ানোর সময়ের চেয়েও অধিক শ্রদ্ধার সাথে। নিঃসন্দেহে এটি এক চরম অজ্ঞতার কাজ, এবং আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি যদি এই সাধারণ মানুষদের কাছে সত্য ব্যাখ্যা করতে পণ্ডিতদের ব্যর্থতার কারণেই এমনটা হয়ে থাকে, যাদের বেশির ভাগই যা করে তা ভালো মনে করেই করে, কিন্তু বাস্তবে তা ভালো নয়।

Leave a Reply